নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ্যসচিব হয়ে না হলেও থাকছেন মমতার সাথেই, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ সামলাবেন আলাপন!গতকাল থেকে রাজ্যে আলোচনার কেন্দ্রে মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বদলি। আচমকা এমাসের শেষে তাঁকে দিল্লিতে যোগদান করতে বলেছে কেন্দ্র। শুক্রবার সন্ধেয় দিল্লিতে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের আন্ডার সেক্রেটারি অংশুমান মিশ্রের লেখা এই চিঠি নবান্নে পৌঁছতেই তোলপাড় শুরু হয়ে যায় রাজ্য প্রশাসনে।


সকলেই বলছিলেন কেন্দ্র-রাজ্য দ্বন্দ্বে ফেঁসে গেছেন মুখ্যসচিব। গতকালের দিনভর আর্জি আবেদনের পরও ইতিবাচক নির্দেশ আসেনি কেন্দ্র থেকে। রবিবার বিকেল পর্যন্ত আলাপনকে রিলিজ অর্ডার দেয়নি রাজ্য, কিন্তু রাজ্য নির্দেশ না দিলে কাজে যোগ দিতে পারবেন না আলাপন। এদিকে আবার মমতার আর্জি মেনে সরকার প্রত্যাহার করেনি আলাপনের বদলির নোটিস। আগামী কাল নবন্নতে বৈঠক থাকলেও সেখানে উপস্থিত থাকবেন কিনা আলাপন সেই নিয়েও এখনো সন্দেহ রয়েছে। তবে সূত্র বলছে অন্য খবর। কেন্দ্র বদলির নোটিশ প্রত্যাহার না করলে আগামীকালই ইস্তফা দেবেন আলাপন। নেবেননা এক্সটেনশন। মুখ্যসচিব হয়ে না হলেও থাকবেন মমতার সাথেই, দিঘা উন্নয়ন পর্ষদ সামলাবেন আলাপন!
কেন্দ্রের চিঠিতে বলা হয়েছিল, ১৯৮৭ ব্যাচের IAS অফিসার আলাপনের জন্য ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্ট কমিটি প্লেসমেন্ট অনুমোদন করেছে। তাই অবিলম্বে ওই অফিসারকে রাজ্য থেকে ‘ছেড়ে দেওয়া’র আবেদন করা হয়েছে। আগামী সোমবার তাঁকে নয়াদিল্লির নর্থব্লকে ডিওপিটি বিভাগে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে এ-ও উল্লেখ করা হয়েছে, ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (ক্যাডার) রুলস, ১৯৫৪ অনুযায়ী এই নির্দেশিকা জারি করা হল।
তৃণমূল ছাড়া বাম-কংগ্রেস, প্রাক্তন আমলা প্রায় সকলেই মনে করছেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একাজ করেছে বিজেপি। গতকাল প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আলাপনের ওপর ভরসা করেই তাঁর মেয়াদ তিনমাস বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছিলেন মমতা। কেন্দ্র গ্রিন সিগন্যালও দিয়েছিলো। তার পরেই রাতারাতি এই মত বদলকে ঠিক কিভবে হ্যান্ডেল করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন সকলেই।


গতকাল নবান্ন থেকে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে। বাংলায় ক্ষমতা কায়েম করতে পারেনি ২১ এর নির্বাচনে তাই মুখ্যসচিবকে সরিয়ে জব্দ করতে চাইছে প্রশাসন। সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন আলাপনের ভুল কী? কাজের কোন গাফিলতি থেকে কোন ক্ষেত্রে অভিযোগ নেই, মেয়াদ বাড়ানোর পরেও রাজ্যের সঙ্গে কোনরকম যোগাযোগ না করেই এই ধরণে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র স্রেফ বাংলাকে জব্দ করতে। তিনি অনুরোধ করেছেন কেন্দ্র ফিরিয়ে নিক আলাপনের দিল্লি ডাক।








