নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেষ্টর গড়ে পদপিষ্ট ৭, কোথাও ভোররাত থেকে কোভিড বিধি উড়িয়ে লম্বা লাইন, কোথাও হারালো ফোন-টাকা। উপলক্ষ্য ফর্ম নেওয়া। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে’র ফর্ম বিলি শুরু হয়েছে আজ থেকেই। আর সকাল থেকেই এই ফর্ম নেওয়ার জন্য ব্যাপক ভিড় চোখে পড়ছে জেলায় জেলায়। ভিড় সামলাতে হুলস্থুল সব পক্ষ। লাইনে নেই করোনা বিধি। মানুষ ভিড় করে হুড়মুড়িয়ে নিচ্ছেন ফর্ম। সূত্রের খবর ফর্ম নিতে গিয়ে ব্যাপক হুলস্থুলে বীরভূমে পদপিষ্ট হয়েছেন অন্তত ৭ জন মানুষ।
আরও পড়ুনঃ কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী, আজ থেকে শুরু ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়
তৃতীয় দফায় ক্ষমতায় ফেরার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন তিনি ক্ষমতায় ফিরলেই ফিরবে ‘দুয়ারে সরকার’। সেই কথা মতো রাজ্য জুড়ে আজ থেকেই শুরু হচ্ছে দ্বিতীয় দফার ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প। গত দুয়ারে সরকার প্রকল্পে স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড এর চাহিদা ছিল তুমুল। এবারও রাজ্য সরকারের সমস্ত প্রকল্পের সাথে স্বাস্থ্যসাথী তো থাকবেই সঙ্গে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রকল্প ‘লক্ষীর ভান্ডার’।

এই প্রকল্পে রাজ্যের শিশু সুরক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দফতর মহিলাদের প্রত্যেক মাসে ৫০০ টাকা করে ও এসসি-এসটি দের ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা করে দেওয়ার নির্দেশিকা জারি করেছে। তবে প্রকল্পের প্রেক্ষিতে শিশু সুরক্ষা ও পরিবার কল্যাণ দফতর। ২৫-৬০ বছরের রাজ্যের যে সব মহিলাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নাম নথিভূক্ত আছে তারাই পাবেন লক্ষ্মীর ভান্ডারের সুবিধা।
সরকারি কর্মচারী বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কেন্দ্রের ও রাজ্যের, কোনও স্বশাসিত সংস্থা, সরকারি নিয়ন্ত্রিত কোনও সংস্থার নিতমিত বেতন বা পেনশন প্রাপ্তরা পাবেন না এই সুবিধা। বিধানসভা ভোটের আগেই এই প্রকল্পের কথা বলেছিলেন মমতা। প্রকল্প বাস্তবায়নের আগেই বেশ কিছু অভিযোগও উঠে এসেছে। সব পেরিয়ে আজ থেকে শুরু হয়েছে লক্ষীর ভান্ডারের ফর্ম বিলি।

স্থানীয় ক্যাম্পে প্রথম থেকেই লম্বা লাইন পড়েছে। রাজ্যের একাধিক জায়গায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। ফর্ম বিলিকে কেন্দ্র করে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর শ্রীরামপুরে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। লম্বা লাইন দুই পরগনাতেও। অন্যদিকে ভিড়ে ঠাসাঠাসি হয়ে ফর্ম নিতে গিয়ে বীরভূমে পদপিষ্ট হয়েছেন অন্তত ৭ জন মানুষ।
কেষ্টর গড়ে পদপিষ্ট ৭, পাড়ায় পাড়ায় মাইকিংয়ের পরেও কোভিড বিধি না মানায় আক্কেপ নেতাদের।

স্থানীয় সূত্রের খবর প্রবল ভিড়ে চাপা পড়েছেন কয়েকজন। হারিয়েছে অনেকের ফোন। অসুস্থদের তড়িঘড়ি তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে হাসপাতালে। স্থানীয় নেতাদের আক্ষেপ বারবার কোভিড বিধি সহ একাধিক সতর্কতা বানী প্রচার, মাইকিং করা হলেও কথা শুনছেন না সাধারণ মানুষ।




