নজরবন্দি ব্যুরোঃ কাকাবাবুর জন্মদিন, সেই উপলক্ষ্যে প্রমোদ দাশগুপ্ত ভবনে একসঙ্গে বসেছিলেন সিপিএমের প্রথম সারির মুখেরা। বাংলা বিধানসভার ভোটে শূণ্য পাওয়ার পর গতকালই মুজফ্ফর আহমেদের জন্মদিনে প্রথম প্রকাশ্য মিটিং ছিল বামেদের, উপস্থিত ছিলেন বিমান-সূর্য-সেলিম।
আরও পড়ুনঃ সব প্রস্তুতি সত্বেও দেরি হচ্ছে উপনির্বাচনে, আজ ফের কমিশনে তৃণমূল


সেখানে বামেদের অস্তিত্ব, ভোটের লড়ার রুটম্যাপ, রেড ভলেন্টিয়ার সব প্রসঙ্গ উঠে এলেও দিনভর গেল বিজেমূল তত্ব এবং তার প্রয়োগের ব্যাখ্যা দিতেই। তাঁদের মত বিজেমূল শব্দ ব্যবহার করলেও আদপে তৃণমূল আর বিজেপিকে গুলিয়ে ফেলেননি বামেরা। আরএসএস এর মতো কোন দল হতে পারেনা একথা তাঁরা জানতেন বাংলার ভোটের আগে থেকেই।
নিজের উদ্ভাবন করা ‘বিজমূল’ তত্বের ব্যাখ্যা দিতে ঘিরে সেলিম সভায় টেনে এনেছেন একাধিক প্রসঙ্গ। সে বহু আগের ‘কংশাল’ স্লোগান হোক বা সুকুমার রায়ের ‘হাঁসজারু’ শব্দ হোক। সেলিমের মতে, ‘‘সত্তরের দশকে বাংলায় ‘কংশাল’ কথাটা চালু হয়। তার মানে কি কংগ্রেস আর নকশাল এক ছিল? সুকুমার রায় ‘বকচ্ছপ’ বা ‘হাঁসজারু’র কথা লিখেছিলেন। বক আর কচ্ছপ কি কখনও এক হতে পারে? একটা বিশেষ পরিস্থিতি বোঝাতে এমন শব্দের প্রচলন হয়।’’
ভোটের হারের পরে নিজেদের অস্ত্বিত্বের কাঁটাছেড়া করতে গিয়ে আগেই বামেদের তরফ থেকে বলা হয়েছিল ভূল হয়েছে বিজেমূল তত্বে। তবে তাতে যে বাংলার তৃণমূলের প্রতি কোন ভাবেই নরম নয়, এমনকি বিমানের যেকোন দলের সঙ্গে জোটের প্রসঙ্গ ঠিক নয় তাও বুঝিয়েছেন সূর্যকান্ত।


সূর্যকান্ত মিশ্রর মতে, ‘সারা দেশে সব বিরোধী একজোট হচ্ছে বিজেপির বিরুদ্ধে। সেটা ভাল উদ্যোগ। জাতীয় স্তরে এমন ঐক্য হলেও আঞ্চলিক দলগুলোর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে।’’ একই সঙ্গে তিনি বলেছেন ‘‘পরাজিত আমরা হয়েছি। কিন্তু যে ভিত্তির উপরে দাঁড়িয়ে বাংলায় নির্বাচন করেছি, সেটা ঠিক। বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়তে চান, তাঁদের একজোট হতে হবে। তৃণমূলের প্রতি যাঁরা নরম মনোভাবের কথা বলছেন, তাঁরা শাসক দলের বিরুদ্ধে থাকা ক্ষোভের উপাদানগুলিকে অস্বীকার করছেন।’’
তাঁদের মতে জাতীয় স্তরে যেমন নমো সরকারের বিরুদ্ধে লড়বে বামেরা তেমনই বাংলায় লড়বে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে। একের সঙ্গে লড়তে গিয়ে অন্যের প্রতি নরম মনোভাবের কোন কারণ নেই বামেদের একথা স্পষ্ট করে বলা হয়েছে গতকাল। সময় ভর বিজেমূল তত্ব তার ভূল এবং ঠিকের ব্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি বামেদের নয়া পরিকল্পনা, তরুণ তুর্কিদের এই কঠিন সময়েও রাজ্যের মানুষের পাশে দিন রাত এক করে থাকা উঠে এসেছিল সব প্রসঙ্গই।







