সাজো সাজো রবে লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করতে নেমেছিল রাজ্য বামফ্রন্ট। তৃণমূল যখন কংগ্রেসের সাথে জট করবেনা জানিয়ে দিল, সেই হাত প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই ধরে নিল সিপিআইএম। কিন্তু এত চেষ্টা করেও হাল ফিরল না লালের। রাজ্যে কংগ্রেস ১২ আর বামফ্রন্ট ৩০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, সেখানে বামেদের ২৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সেলিম আর সুজন, দলের দুই সিনিয়র লিডার ছাড়া সবারই খোয়া গেছে জামানত। কিন্তু এরই মধ্যে সুখবর সিপিআইএমের জন্যে।


কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করে ৩০টি লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বামেরা। ছিল ‘ঝকঝকে’ তরুণ মুখও। শেষ পর্যন্ত সেই তরুণ মুখের জন্যই মুজফফর আহমেদ ভবনকে গুনতে হবে লক্ষাধিক টাকা। জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে তরুণদের। সিপিআইএমের দুই পোড় খাওয়া নেতা, মুর্শিদাবাদের মহম্মদ সেলিম ও দমদমের সুজন চক্রবর্তী ছাড়া জামানত গেছে সবার। একমাত্র রাজ্য সম্পাদক সেলিম দ্বিতীয় হতে পেরেছেন। তিনি পেয়েছেন ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ২২৭টি ভোট অর্থাৎ ৩৩.৬২ শতাংশ। আর সুজনবাবু পেয়েছেন ১৯.১১ শতাংশ ভোট। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের একের ছয় ভাগ বা ১৬.৬৬ শতাংশ পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা পায়।

জামানত-অঙ্ক ছুঁতে না পারার তালিকায় রয়েছেন তমলুকের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, বারাকপুরের দেবদূত ঘোষ, কলকাতা দক্ষিণের সায়রা শাহ হালিম, ডায়মন্ডহারবারের প্রতীক-উর-রহমান, শ্রীরামপুরের দীপ্সিতা ধর, যাদবপুরের সৃজন ভট্টাচার্যর মতো নামজাদা প্রার্থী। জামানত খুইয়েছেন বরানগর উপ নির্বাচনের প্রার্থী তন্ময় ভট্টাচার্যও। যদিও যাদবপুরের সৃজন ভট্টাচার্য ও শ্রীরামপুরের দীপ্সিতা ধরের একেবারে কানের পাশ দিয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সৃজন ও দীপ্সিতা জামানত রক্ষা থেকে যথাক্রমে ০.১৪ শতাংশ ও ০.৪৬ শতাংশ দূরে থেমে গিয়েছেন।
২৮ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরেও সুখবর, অবশেষে রাজ্যে খাতা খুলল সিপিআইএম।



যদিও সব খারাপের মধ্যে একটা ভাল খবরও আছে। ২০১৯ লোকসভায় কোন আসন না পাওয়া বাম- এগিয়ে ছিলনা কোন বিধানসভা আসনেও। শূন্য ছিল ২০২১ বিধানসভাতেও। এইবার কিন্তু সেই শূন্য সংখ্যা ১ এ গিয়ে পৌঁছেছে। মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রানিনগর বিধানসভা আসনে সব থেকে বেশি ভোট পেয়েছেন সিপিআইএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম। অর্থাৎ বিধানসভার নিরিখে এই আসনে জয়ী সিপিআইএম।








