নজরবন্দি ব্যুরোঃ খাতা খুলতে না পারলেও লড়াই চালিয়ে যাবে বামেরা, জানালেন বিমান বসু। এক সময়ের লাল দুর্গ ছিল এই পশ্চিমবঙ্গ। দু এক বছর নয় টানা ৩৪ বছর দাপটের সঙ্গে রাজ্য শাসন করেছে বামফ্রন্ট সরকার। তারপর সময় বদলেছে। ২৩৪ আসন থেকে কমতে কমতে এবারের নির্বাচনে খাতা খুলতে না পেরে অস্ত্বিত্তের সঙ্কটে ভুগছে বামেরা। আইএসএফ কংগ্রেসের সঙ্গে জোট তাদের হারিয়ে যাওয়া জমি ফেরাতে সাহায্য করতে পারবে ভেবে হাত মিলিয়ে এবারের স্কোরসিটে খাতাই না খুলতে পেরে আরও লজ্জা জুটেছে তাদের কপালে।
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর জয় ঘোষণা কমিশনের, নন্দীগ্রাম নিয়ে চিন্তিত নই বললেন মমতা।
এমন অবস্থায় এবার দলে ভরাডুবি নিয়ে মুখ খুললেন স্বয়ং বিমান বসু। জানালেন তাদের হারের কারন বিশ্লেষণ তারা করবেন তবে এই মুহূর্তে বেশি দায়িত্ব তৃণমূল ও বিজেপির। তাঁর কথায় “তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী সব শক্তির কাছেই দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেল”। তবু প্রশ্ন তো থেকেই যায় এই শোচনীয় হারের দায় কার? ইতিমধ্যেই বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্য বলেছেন “এর আগে লোকসভায় বামেরা শূন্য হয়ে গেলো। সেই দায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিলো না। এবার বিধানসভায় বামেরা শূন্য হয়ে গেলো, কেন্দ্রীয় যে নেতাদের জন্য এটা হলো তাঁদের এই দায় নিতে হবে। এই পরাজয়ের জন্য প্রার্থী বা কর্মীরা দায়ী নয়।” এমন অবস্থায় আগামী দিনে কি হওয়া উচিত লালবাড়ির কর্মসূচী।
বিমানবাবু বলেন “এই নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে ভূমিকা পালন করেছেন যে কর্মীরা, তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। গণনা পরবর্তী সময়ে রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য সকলের কাছে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। বর্তমানে কোভিড মহামারী মোকাবিলা করতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করার দাবি উত্থাপন করার সঙ্গে সঙ্গে সংযুক্ত মোর্চার সমস্ত শরিক দলকে যুদ্ধকালীন তত্পরতায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে হবে। সংবিধানের বিধি রক্ষা করা, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করা, ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষা করা, শ্রমজীবী মানুষের রুটি রুজির লড়াই সংগ্রামকে বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার দায়িত্ব পালন করবে সংযুক্ত মোর্চা।”
এরপর শাসক শিবিরের বিপুল জয় নিয়ে তিনি বলেন “সপ্তদশ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। এই নির্বাচনে বিজেপি-র পরাজয় উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। সংযুক্ত মোর্চা নির্বাচনে বিপর্যস্ত হয়েছে। কেন এই বিপর্যয় হলো তা আমরা পরবর্তী সময়ে সংযুক্ত মোর্চার সমস্ত শরিক নিজ নিজ দলে আলোচনা করে, যৌথ পর্যালোচনা করে কারণ অনুসন্ধান করব এবং সেই অনুযায়ী শিক্ষা গ্রহণ করব। কিন্তু ফলাফল দেখে প্রাথমিক ভাবে হয়ত একথা বলা যেতে পারে বিজেপি-কে পরাস্ত করার জন্য জনগণের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তৃণমূল লাভবান হয়েছে।” এরপরেই তাঁর সংযোজন “উল্লেখযোগ্য ঘটনা এই যে বিগত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি এরাজ্যে ১৮টি আসনে জয়লাভ করে বাংলা জয়ের বাসনায় আরএসএস, সঙ্ঘ পরিবারকে ব্যবহার করে বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হবার জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে, বেশ কিছু হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় দাপিয়ে বেড়িয়েছিল। তারপরও বাংলার মানুষ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। কিন্তু বিজেপি বাংলার সমাজধারায় একটি স্থায়ী ক্ষত তৈরি করেছে যার পরিণতিতে ভবিষ্যতে বাংলার সমাজ ও সংস্কৃতিতে ক্ষতিসাধন হতে পারে।”
খাতা খুলতে না পারলেও লড়াই চালিয়ে যাবে বামেরা, জানালেন বিমান বসু। এখন দেখার ঘুরে দাঁড়ানোর লরাইয়ে কতটা সফল হন এই বর্ষীয়ান নেতা ও তাঁর দল। তবে আপাতত দলের লক্ষ্য অস্তিত্ত্ব সঙ্কট কাটিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানো।



