বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সমীকরণ যত জটিল হচ্ছে, ততই চাপ বাড়ছে বিরোধী শিবিরে। রাজ্য বাজেট, সংগঠনের অন্দরের ক্ষোভ এবং তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানকে ঘিরে বিতর্ক—সব মিলিয়ে সিপিএমের রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে একটাই প্রশ্ন—দলের ভেতরের এই ‘বিদ্রোহ’ কি বড় সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যাবে?
সিপিএমের রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা রাজ্য বাজেট নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। দলের একাংশের মতে, তৃণমূল সরকারের সামাজিক প্রকল্প—যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুব সাথী’-র বরাদ্দ বৃদ্ধি ভোটের আগে বিরোধীদের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি সংগঠনকে নতুন কৌশল ভাবতে বাধ্য করছে বলেই মত নেতৃত্বের একাংশের।


বৃহস্পতিবার বৈঠকের প্রথম দিনে মূলত জেলা ভিত্তিক রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আসন্ন বিধানসভা ভোটের প্রস্তুতিও উঠে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রায় ৮০ শতাংশ আসনে প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হলেও বাকি ২০ শতাংশ আসন নিয়ে এখনও শরিকদের সঙ্গে মতপার্থক্য রয়েছে। সেই জট কাটলেই প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে প্রায় ২০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সিপিএম।
অন্যদিকে, দলের তরুণ নেতা প্রতীক উর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক বৈঠকের অন্যতম আলোচিত বিষয় হলেও প্রকাশ্যে এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। নেতৃত্বের এই নীরবতা রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে। দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত, শুক্রবার বৈঠকের শেষ দিনে প্রতীক উর প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
প্রতীক উর রহমান ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরে নিজের বক্তব্য জানাতে চাইলেও তাঁকে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। রাজ্য সম্পাদককে চিঠি পাঠিয়েও সাড়া পাননি বলে অভিযোগ তাঁর। প্রতীক উরের কথায়, “আমি প্রাক্তন হতে চাইনি, কিন্তু আমাকে প্রাক্তন করে দেওয়া হচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।”


দলের অন্দরে একাধিক যুব নেতা তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন বলেও জানা যাচ্ছে। ফলে ভোটের আগে সংগঠনের ঐক্য ও নেতৃত্বের অবস্থান—দু’টিই এখন সিপিএমের কাছে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।








