আসন্ন বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বুথ স্তরের প্রস্তুতিতে জোর দিল নির্বাচন কমিশন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে বুথে নজরদারি—সব ক্ষেত্রেই কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও)। স্পষ্ট বার্তা, কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর থেকে জারি করা এই নির্দেশিকায় বিএলওদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভোটের অন্তত পাঁচ দিন আগে পর্যন্ত প্রত্যেক ভোটারের হাতে সরাসরি ‘ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ’ পৌঁছে দিতে হবে। তা কোনওভাবেই একসঙ্গে বা বাল্কে বিলি করা যাবে না। ভোটার বা তাঁর পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এই স্লিপ তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বিএলওর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
বুথের পরিকাঠামো নিয়েও দেওয়া হয়েছে একাধিক নির্দেশ। ওয়েবকাস্টিংয়ের জন্য ক্যামেরা বসানো, আলো-বাতাসের সঠিক ব্যবস্থা, ভোটকক্ষের পরিবেশ—সব কিছুতেই নজর রাখতে হবে বিএলও ও সেক্টর অফিসারদের। বিশেষ করে অতিরিক্ত আলো যাতে ভিভিপ্যাট যন্ত্রের উপর না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভোটের গোপনীয়তা বজায় রেখে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
ভোটের দিন প্রতিটি বুথে ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’ চালু থাকবে। সেখানে উপস্থিত কর্মীরা ভোটারদের নাম খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন। ইংরেজি বর্ণানুক্রমে তৈরি তালিকার মাধ্যমে সহজেই নিজের নাম যাচাই করতে পারবেন ভোটাররা।
কমিশন আরও স্পষ্ট করেছে, ভোটের দিন আর কোনও ভোটার স্লিপ বিতরণ করা যাবে না। মহিলা ভোটারদের সুবিধার জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথাও বলা হয়েছে। যেখানে পর্দানশীন মহিলার সংখ্যা বেশি, সেখানে তাঁদের শনাক্ত করতে মহিলা কর্মী নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতেই এই কড়া নির্দেশ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। কমিশনের বার্তা একটাই—নিয়ম অমান্য হলে কড়া পদক্ষেপ অনিবার্য।



