নারদে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র দেখছে সিপিএম! বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ

নারদে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র দেখছে সিপিএম!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ নারদে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র দেখছে সিপিএম! কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা হলেও ব্যাপারটা সত্যি। নারদ কান্ডে তৃণমূল নেতা মন্ত্রীদের গ্রেফতারিকে এভাবেই ব্যাখ্যা করল সিপিএম, রীতিমত বিবৃতি জারি করেছে আলিমুদ্দিন।  অতিমারীর সময় সিবিআইয়ের এই গ্রেপ্তার সম্পূর্ন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতা চাপা দিতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে সিপিএমের বিবৃতিতে।

আরও পড়ুনঃ এবার সারদা-রোজভ্যালি আর কয়লা? অভিষেক বলেছিলেন… হাততালি পড়েছিল ভরা জনসভায়। 

বিবৃতিতে সিপিএম লিখেছে, “আজ ১৭ই মে রাজ্যের ২ জন মন্ত্রীসহ তৃণমূল কংগ্রেসের তিন নেতা ও কলকাতার প্রাক্তন মেয়রকে ‘নারদা’ কান্ডে নিজাম প্যালেসের সি বি আই দপ্তরে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। করােনা মহামারিতে যখন সারা দেশের মানুষের জীবন, জীবিকা অভূতপূর্ব বিপর্যয়ের সম্মুখীন তখনই সরকারের সীমাহীন অপদার্থতা চাপা দিতে মানুষের নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই সময়টা বেছে নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণােদিতভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশ ও রাজ্যব্যাপী করােনা মহামরির ভয়ংকর আক্রমণের সময়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা সি বি আই-র এই পদক্ষেপের আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি। বিজেপি পরিস্থিতিকে ঘােরালাে করেছে এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই পরিস্থিতির সুযােগ গ্রহণ করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। মহামারি আইন সংক্রান্ত সরকারী নির্দেশ ও সার্কুলারকে অমান্য করে নিজাম প্যালেসসহ রাজ্যের সর্বত্র সরকারী দলের পক্ষ থেকে অবৈধ জমায়েত করা হচ্ছে।

আমরা দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চিটফান্ড কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত সকল অপরাধীদের বিচার ও লুষ্ঠিত মানুষের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবী নিয়ে লড়াই করছি। বহু গরীব ও সাধারণ মানুষ এই আর্থিক প্রতারনার শিকার হয়েছেন এবং অনেকেরই দুখঃজনক মৃত্যু হয়েছে। নারদা টেপ নিয়েও অপরাধীদের শাস্তি দেওয়ার জন্য বিজেপি সরকার এবং তাদের পরিচালিত সংস্থাসমুহ সাত বছরে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। সংসদে এল কে আদবানির নেতৃত্বে গঠিত ‘এথিক্স কমিটি’-কে অকেজো করে রাখা হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত সংসদে স্পিকার ও পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পরস্পর বিরােধী অবস্থান নিয়ে চলেছেন। কেন্দ্রীয় সরকার দু-মুখাে নীতি নিয়ে চলছে। রাজনৈতিক ফায়দা তােলার জন্য দর কষাকষি ও দল ভাঙানাের লক্ষ্যে এই কেলেঙ্কারিগুলাে চাপা দিয়ে এই সব কেলেঙ্কারির সাথে যুক্ত অন্যান্য আসামীদের রক্ষাকবচ দিতে নিজের দলের নেতা বানিয়েছে।

এখন করােনা মহামারি মােকাবিলাই প্রধান কাজ। কেন্দ্রীয় সরকারের সার্বিক ব্যর্থতা দেশের জনগণকে এক ভয়ংকর বিপদের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে। বিজেপি-র মনে রাখা উচিত সদ্য রাজ্যের মানুষ যে তাঁদের সরকারে চায় না, স্পষ্টভাবে সেই রায় দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীরও মনে রাখা উচিত যে এই রায় বিজেপি-র বিরুদ্ধে হলেও তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনের পক্ষে ইতিবাচক রায় নয়। দুর্নীতির সঙ্গে আপােষ করে, দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপি-র মতাে ভয়ংকর শক্তিকে যে মােকাবিলা করা যায় না এই শিক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসেরও গ্রহণ করা উচিত। সংঘ পরিবার ও বিজেপি-র ফ্যাসিবাদী কায়দায় শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হলে নিজেদের দলের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও বিরােধীশূন্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হয়।”

উল্লেখ্য, বিনা নোটিসে  আজ সকালেই মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়া হয় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও। নিজাম প্যালেসেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অ্যারেস্ট মেমো। আজই আদালতে তোলা হবে ৪ জনকেই। সূত্রের খবর, চার্জশিটের বয়ান ঠিক করে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার পরেই সাতসকালে তড়িঘড়ি গেপ্তার করা হয়েছে। তার পর থেকেই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল। দিকে দিকে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। তৃণমূল বলছে পরাজয়ের প্রতিহিংসা থেকেই এসব করছে বিজেপি।

নারদে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র দেখছে সিপিএম! বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ
নারদে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারিতে কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র দেখছে সিপিএম! বিবৃতি দিয়ে প্রতিবাদ

গ্রেপ্তারির জেরে অশান্তির আশঙ্কায় আগেই গোটা নিজাম প্যালেসের দখল নিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। আর বেলা গড়াতেই দুই পক্ষের সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল সিবিআই দপ্তর। আর এবার ক্ষোভের মধ্যেই ধস্তাধস্তি শুরু হল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও তৃণমূল সমর্থকদের মধ্যে। বিক্ষোভকারীরা ইটি বৃষ্টি শুরু করলেন বাহিনীকে লক্ষ্য করে। তাতে আরও উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি।

ভেতরে নাছোড় মুখ্যমন্ত্রী বসে আছেন এখনো, সকালেই তিনি CBI কে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছিলেন, তাঁকেও গ্রেপ্তার করতে হবে, নিজের কথায় অনড় মমতা এখনো নিজাম প্যালেসেই। অন্যদিকে বাইরে জমা হয়ে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন কর্মী সমর্থকেরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতেই মমতাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাজভবন থেকে একের পর এক ট্যুইট করছেন রাজ্যপাল। সব মিলিয়ে এই মুহুর্তে গোটা রাজ্যের চোখ নিজাম প্যালেসের দিকেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here