আইপিএল ফাইনাল ঘিরে এবার নতুন কূটনৈতিক জল্পনা। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের আমন্ত্রণ পেয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। শুধু আইপিএল ফাইনালই নয়, মে মাসের শেষ সপ্তাহে আহমেদাবাদে হতে চলা ICC-এর গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড বৈঠকেও যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতিতে আদৌ তিনি ভারতে আসবেন কি না, তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এপ্রিলে হওয়ার কথা থাকা আইসিসির ত্রৈমাসিক বৈঠক পিছিয়ে গিয়েছিল। এখন সেই বৈঠক হবে মে মাসের শেষ সপ্তাহে অহমদাবাদে। আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলির বোর্ড প্রধান বা প্রতিনিধিদের সেখানে উপস্থিত থাকার কথা।


একই সময়ে, ৩০ বা ৩১ মে হতে চলেছে IPL ফাইনাল । সেই কারণেই আইসিসি বোর্ডের সদস্যদের আইপিএল ফাইনাল দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে BCCI। আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান মহসিন নকভিও।
পাকিস্তানের এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, সব দেশের বোর্ড প্রধানদের মতো নকভিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত বিসিসিআই বা পিসিবি কেউই সরকারি ভাবে এ নিয়ে মুখ খোলেনি।
তবে বিষয়টি শুধুমাত্র ক্রিকেটীয় সৌজন্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। কারণ, মহসিন নকভি শুধু পিসিবি চেয়ারম্যান নন, তিনি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রীও। ফলে তাঁর ভারত সফর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


বিশেষ করে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে। সেই আবহে নকভির ভারতে আসা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
ভারত-পাক ক্রিকেট সম্পর্কও গত কয়েক বছরে তলানিতে পৌঁছেছে। এশিয়া কাপ ঘিরে বিতর্কের পর আইসিসির মধ্যস্থতায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ২০৩০ সাল পর্যন্ত কোনও দেশই অপর দেশের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে না।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের কোনও ম্যাচ ভারতে হয়নি। পাশাপাশি এশিয়া কাপ জয়ের পর ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা নকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকার করেছিলেন বলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসির বোর্ড বৈঠকে পিসিবির প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়েই ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট মহলের একাংশের মতে, শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান বোর্ড প্রতিনিধি পাঠানো থেকে বিরতও থাকতে পারে।
তবে যদি মহসিন নকভি ভারতে আসেন, তাহলে তা শুধু ক্রিকেট নয়, ভারত-পাক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হবে বলেই মত কূটনৈতিক মহলের।







