দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জট কাটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রের টেলিকমিউনিকেশনস (রাইট অফ ওয়ে) রুলস, ২০২৪ কার্যকর করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নতুন এই নিয়ম চালু হওয়ায় বাংলায় ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, মোবাইল টাওয়ার ও গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড প্রকল্পের কাজ অনেক দ্রুত এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরগুলিতে উন্নত ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে বড় মোড় ঘোরানো পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের টেলিকমিউনিকেশনস অ্যাক্টের আওতায় তৈরি ‘টেলিকমিউনিকেশনস (রাইট অফ ওয়ে) রুলস, ২০২৪’ পশ্চিমবঙ্গে ১ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর ফলে টেলিকম পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিয়মই এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে মানতে হবে।


ডিজিটাল বাংলার পথে বড় পদক্ষেপ! নতুন টেলিকম নিয়মে দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবার আশা

সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন মোবাইল টাওয়ার বসানো বা অপটিক্যাল ফাইবার কেবল পাতার জন্য বিভিন্ন দফতরের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হত। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হত। বহু ক্ষেত্রে মাসের পর মাস কাজ আটকে থাকত। নতুন নিয়মে সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হচ্ছে।
এই নিয়ম অনুযায়ী, টেলিকম সংস্থাগুলিকে এখন একটি নির্দিষ্ট অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অনুমোদন দিতে হবে প্রশাসনকে। এতে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির কাজও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভারতনেট প্রকল্প। দেশের বৃহত্তম গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড কর্মসূচিগুলির অন্যতম এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম পঞ্চায়েতগুলিতে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় সেই কাজে গতি আসবে বলেই আশা প্রশাসনিক মহলের।


একইসঙ্গে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, এতদিন চালু থাকা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল টেলিকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার গাইডলাইনস, ২০২৩’ অবিলম্বে বাতিল করা হচ্ছে। অর্থাৎ, এখন থেকে কেন্দ্রীয় নিয়ম মেনেই টেলিকম সংক্রান্ত সমস্ত পরিকাঠামো উন্নয়ন হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু টেলিকম শিল্পের জন্য নয়, শিক্ষা, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিষেবা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত ইন্টারনেট পরিষেবা বাড়লে ছোট ব্যবসায়ী, ছাত্রছাত্রী এবং অনলাইন পরিষেবার উপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।







