নজরবন্দি ব্যুরো: কমিউনিস্ট পার্টি মানেই সর্বহারার দল। আর সর্বহারার দল করে দামি গাড়ি কেনা মহাপাপ! তাঁদের ইতিহাস মানেই শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস। এই আদর্শই গোটা বিশ্বে প্রচারিত, উদযাপিতও বটে। তাই কমিউনিস্ট পার্টি আর ভোগবাদ এই দুটি শব্দবন্ধকে যেন পাশাপাশি রাখাই যায় না। অথচ সময় তো বদলেছে। সমাজতন্ত্রের স্বপ্নকে নস্যাৎ করে এখন বিশ্ব কাঁপাচ্ছে ধনতন্ত্র, পুঁজিবাদই দেখাচ্ছে ভবিষ্যত। এহেন পরিস্থিতিতে সাম্যবাদকে টিকিয়ে রাখার মতো চ্যালেঞ্জের কাজটিই করে চলেছেন বামপন্থী নেতারা। এখন গৌরচন্দ্রিকা না করে ঘটনায় আসা যাক।
আরও পড়ুন: আঁধার ঘনাইছে গুজরাতে! ‘বিপর্যয়’ তান্ডবে হত ২, বিদ্যুতহীন গ্রামের পর গ্রাম


কেরলের সিপিএম নেতা পিকে অনিল কুমারকে বহিষ্কার করল দল। কী অপরাধ করেছিলেন অনিল? তাঁর অপরাধ, তিনি একটি ৫০ লাখ টাকা দামের ঝাঁ চকচকে গাড়ি কিনেছিলেন! ব্র্যাণ্ডটিও খাসা, মিনি কুপার। আর রঙ যেন একেবারে কচি কলাপাতা! সমস্ত গাড়িপ্রেমী মানুষের কাছে এই গাড়িটি যে ঈর্ষার বিষয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর অনিলের এই অপরাধের কারণেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করল কেরল সিপিএম। দলের সর্বক্ষণের নেতা ছাড়াও অনিল ছিলেন রাজ্যের পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাস কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। ফলে তাঁকে বহিষ্কারের ঘটনাটি কিন্তু বেশ শোরগোল সৃষ্টি করেছে ভারতীয় রাজনৈতিক মহলে।

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেও এরকমই একটি বিষয়কে নিয়ে ঝড় বয়ে গিয়েছিল। বাংলার সিপিএম নেতা শতরূপ ঘোষ এরকমই একটি দামি গাড়ি কিনেছিলেন, যদিও তার মূল্য ৫০ লাখ ছিল না। তবে অর্ধেক তো ছিলই। আর শতরূপ ঘোষের গাড়ি কেনা নিয়ে তাঁকে প্রকাশ্যে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর বক্তব্য ছিল, একজন সর্বহারা দলের সদস্য এত দামি গাড়ি কিনবে কেন! জবাবে শতরূপও পাল্টা বলেন, গাড়িটি কেনার টাকা দিয়েছেন তাঁর বাবা, শুধু নিজের নামে না কিনে ছেলের নামে কিনেছেন। যদিও বঙ্গ রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির বিচারে এই ঘটনাটি এখন অনেকটাই স্তিমিত। তবে, পিকে অনিল কুমারকে বহিষ্কার করায় শতরূপ ঘোষের গাড়ি কেনার বিষয়টি যেন নতুন করে প্রাসঙ্গিকতা পেল।

পিকে অনিল কুমারের গাড়ি কেনা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিতর্কের প্রায় সাথে সাথেই অনিলের স্ত্রী সাফাইও দিয়েছিলেন যে, এই গাড়ি তাঁর স্বামী নয়। গাড়িটি কিনেছেন আসলে তিনি। তিনি ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে চাকরি করেন সেই টাকাতেই কিনেছেন। তবে কেরল সিপিএম আর বিতর্ক পুষে রাখতে চায়নি। কেরল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দ সাফ জানান, অনিলের গাড়ি কেনা আসলে দলের নীতিবিরুদ্ধ কাজ। তাই তাঁকে আর দলে রাখা চলবে না। এখন কেরল সিপিএমের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কি বাংলাতেও পড়বে? শতরূপের ঘাড়েও কি নেমে আসতে পারে বামপন্থার ধারালো কোপ? আবার বামপন্থী হলেই যে বিলাসবহুল জীবন যাপন করা যাবে কি কিনা তা নিয়েও বিতর্ক জারি থাকবে রাজনৈতিক মহলে।


সর্বহারার দল করে দামি গাড়ি কেনা মহাপাপ! কোন নেতাকে বহিষ্কার করল সিপিএম?








