মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ‘স্বেচ্ছায়’ ৩১৫ টাকা দিলে তবেই মিলছে টিকা, বিস্ফোরক অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ‘স্বেচ্ছায়’ ৩১৫ টাকা দিলে তবেই মিলছে টিকা, বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে। নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়িতে। অভিযোগ টিকা দিতে গেলে দিতে হচ্ছে টাকা। সাধারণত, ত্রাণ তহবিলে নিজের ইচ্ছায় টাকা দেন জনগন। সেই টাকা ব্যবহৃত হয় জনস্বার্থেই। কিন্তু ৩১৫ টাকা স্বেচ্ছায় দান না করলে টিকা মিলবে না এই ঘটনা দেশে নজিরবিহীন।

আরও পড়ুনঃ অব্যাহত ভোট পরবর্তী দলবদল, BJP’র দখলে থাকা গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিল তৃণমূল।

ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ড নিয়ে যখন চরমে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতর, তখন টাকা নিয়ে টিকাকরণের  অভিযোগ তুলল একাধিক সংগঠন। নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস আস্যোশিয়েশন নামের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের  সম্পাদক সুরজিৎ পাল এই অভিযোগ সামনে এনেছেন।  তিনি বলেন, “আমাদের স্বেচ্ছায় টিকা পিছু ৩১৫টাকা টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। মোট পাঁচশ জন কর্মীর জন্য টাকা জমা দিয়েছি।”

সুরজিতের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে টাকা দেওয়ার পরেই কারখানার শ্রমিকদের টিকা দেওয়া হয়েছে।” যদিও শেষে তাঁর সংযোজন, “রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ বলেই আমরা খুশি মনে ওই টাকা দিয়েছি।” অন্য এক সংগঠন, ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল আন্ড ট্যুর অপারেটর আস্যোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ  বলেন, “টাকা স্বেচ্ছায় জমা দিতে বলা হলেও টাকার অঙ্ক বলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা ফোন করে জানিয়েছেন ওই টিকা পিছু ৩১৫ টাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটাই সরকারের নীতি। টাকা না দিলে টিকাও মিলছে না।”

সন্দীপন জানিয়েছেন, “রাজ্যের ত্রাণ তহবিলে ডোজ পিছু ৩১৫ টাকা দিয়ে আমরা টিকা নিচ্ছি। গতকাল শিলিগুড়িতে আমাদের টিকার শিবিরে ২২০ জন টিকা নেন। আমরা রাজ্যে ত্রাণ তহবিলে মোট ৬৯,৩০০ টাকা দিয়ে টিকাকরণ করিয়েছি।”

এই ঘটনায়, শিলিগুড়ির প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূল নানা বেআইনি কর্মকাণ্ড করে চলেছে। এইভাবে ত্রাণ তহবিলে টাকা দিয়ে টিকাকরণ করানো যায় না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা এ বিষয়ে উপযুক্ত জায়গায় বলব।”

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলা ও টিকাকরণ নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে টিকাকরণের জন্যে বণিকসভার কাছে টিকা কেনার আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই মতো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল বণিকসভা। কিন্তু টিকানিতে টাকা দিতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে এমন কথা একবারের জন্যেও বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, শিলিগুড়িতে কে বা কারা, কিভাবে টিকাকরণের ক্ষেত্রে ত্রান তহবিলে বাধ্যতামূলক দানের অঙ্ক বেঁধে দিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত