নজরবন্দি ব্যুরোঃ চূড়ান্ত পর্যায় ট্রায়ালের আগেই টিকার ছাড়পত্র। রাশিয়ার পথেই ভারত? ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ অর্থাৎ ICMR এর ডিজি বলরাম ভার্গব সে রকমই ইঙ্গিত দিলেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর ভার্গব জানিয়েছেন, ভারতে তৈরি দুটি করোনা প্রতিষেধকের দ্বিতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল প্রায় শেষ। কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এখনই তাঁদের ছাড়পত্র দিতে পারে। অর্থাৎ ভ্যাকসিন প্রস্তুত চাইলে তা মানবজাতীর কল্যানে ব্যাবহার করা যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ফের করোনায় মৃত্যু কলকাতা পুলিশের আধিকারিকের।


চূড়ান্ত পর্যায় ট্রায়ালের আগেই টিকার ছাড়পত্র। পিটিআই সূত্রে খবর, গত কাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ICMR এর ডিজি বলরাম ভার্গব। ওই বৈঠকে হাজির থাকা এক সাংসদ পিটিআই কে জানিয়েছেন, ভার্গবকে বৈঠকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কত দিন করোনা ভাইরাসে ভয় মাথায় নিয়ে থাকতে হবে মানুষকে? জবাবে ভার্গব জানান, দেশে তৈরি দু’টি করোনা প্রতিষেধকের দ্বিতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষের পথে। তাই কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে এখনই টিকা গুলিকে অনুমোদন দিতে পারে। তিনি জানিয়ে দেন যদি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয় তাহলে আরও কমপক্ষে ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে।
এই দুটি প্রতিষেধক হল ভারত বায়োটেক এবং জাইডাস ক্যাডিলার ভ্যাকসিন। পাশাপাশি অক্সফোর্ডের টিকার চূড়ান্ত অর্থাৎ তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল করছে সিরাম ইনস্টিটিউট। ভারতের করোনা টিকা কোভ্যাক্সিন নিরাপদ বলে আগেই সুখবর দিয়েছে ভারত বায়োটেক। জানা গিয়েছে করোনা ভাইরাসের টিকায় নজিরবিহীন সাফল্য পেতে চলেছে ভারত। আইসিএমআর ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সাহায্য নিয়ে এই টিকা তৈরি করেছে হায়দরাবাদের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ভারত বায়োটেক। টিকার নাম দেওয়া হয়েছে কোভ্যাক্সিন।
যদিও পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সম্পূর্ণ ফল এখনও আসেনি। তবুও প্রথম পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল এবং এই টিকা নিরাপদ বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। প্রথম ধাপে কোভ্যাক্সিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে দেশের ১২ টি যায়গায়। মোট ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবক কোভ্যাক্সিনের ডোজ নিয়েছেন। এই ৩৭৫ জন স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে একজন হলেন বাংলার শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর। সূত্রের খবর তিনি টিকা নেওয়ার পর ভুবনেশ্বরে এসইউএম হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষনে রয়েছেন। সূত্র জানাচ্ছে টিকার দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হয়েছে তাঁর শরীরে। প্রথমটি দেওয়া হয় গত ২৯ শে জুলাই এবং দ্বিতীয়টি ১২ই আগস্ট। দুবারই কোভ্যাক্সিনের .৫ এমএল ডোজ প্রয়োগ করা হয়।


জানা গেছে ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর হালকা জ্বর এসেছিল তাঁর শরীরে। তবে অন্য গুরুতর কোন উপসর্গ দেখা যায়নি তাঁর শরীরে। দ্বিতীয় টিকা প্রয়োগের ১০৪ দিন এবং ১৯৪ দিন পর আবার তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করে দেখা হবে বলে জানা গেছে। দেখা হবে করোনা প্রতিরোধে কতটা অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে চিরঞ্জিতের শরীরে।টিকা প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা অন্যতম চিকিৎসক সবিতা বর্মা জানিয়েছেন, এই টিকা নিরাপদ। তাঁর কথায় “যে সব স্বেচ্ছাসেবক টিকা নিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত আমরা কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পাইনি।”







