ভোটের আবহে ভয়ের বার্তা! করোনায় গতবছরের পুনরাবৃত্তি দেখছেন চিকিৎসকেরা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটের আবহে ভয়ের বার্তা! করোনায় গতবছরের পুনরাবৃত্তি দেখছেন চিকিৎসকেরা। এক বছর পেরোচ্ছে রাজ্যের করোনা আতঙ্কের। গত রবিবারই ছিল সেইদিন, যেদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন কাসর থালা বাজাতে, তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, ভোট উতসবে যা পরিস্থিতি শুরু হয়েছে বাংলায়, আবার দিন এলো বলে কাসর ঘন্টা বাজানোর। কাসর, ঘন্টা, মোমবাতি, গণ্ডী সব মিলিয়ে পেরিয়েছে এক বছর। মানুষের মুখের মাস্ক নামতে শুরু করেছে নাকে বা গলায়। তবে চিকিৎসকেরা সম্ভাবনা দেখছেন সেই মাস্ক কে আবার নাকের ওপর উঠে আসার।

আরও পড়ুনঃ আপাতত পদত্যাগ ও পরে দলত্যাগ, ধাপে ধাপে দল ছাড়ার পথে বেসুরো বিজেপি নেতা।

গত বছর ২৪ মার্চ দেশ জুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক এক বছরের মাথায় বুধবার, ২৪ মার্চ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আবার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রায় একবছরে করোনা নিয়ে মানুষের আতঙ্ক কমেছে অনেকটা। ভয়ের গন্ডী পেরিয়ে ব্যাগ হাতে একে একে কাজে ফিরেছে সবাই। ভিড় হয়েছে লোকাল ট্রেনে। দেলি প্যাসেঞ্জারে গ্লপ হচ্ছে আবার। মেট্রোর সব আসনেই বসছেন সবাই। তবে ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্রের নাগপুরে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাওয়ায় আবার লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। চণ্ডীগড় এবং দিল্লিতে হোলি নিষিদ্ধ করেছে রাজ্য প্রশাসন। দেশে অন্তত পাঁচটি রাজ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে। ইতমধ্যেই কলকাতা এবং বৃহত্তর কলকাতাতেও করোনার অন্য প্রজাতির ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে মানবদেহে। বাংলায় পরিস্থিতি যে ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে, তা মানছেন স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশও।

গতকালই এই করোনা আবহে নির্বাচন করার জন্য ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্‌স ফোরাম’ জনস্বার্থে মামলা করেছে কমিশনের বিরুদ্ধে। বাংলায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, তখন কিন্তু সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা কমছে।পরিসংখ্যান বলছে কলকাতা শহর এবং বৃহত্তর কলকাতায় বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। বিভিন্ন কোভিড হাসপাতালে খালি শয্যার পরিমাণও কমতে শুরু করেছে। বুধবারেই শহরের এক সরকারি হাসপাতালের সুপার আমলাকে বার্তা পাঠিয়েছেন, ‘প্রচুর ফোন আসছে। রোগী ভর্তির সংখ্যাও রোজ বাড়ছে’। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত রাজ্য সরকারও। কিন্তু এখনই সম্পূর্ণ লকডাউন বা দোলের উৎসব নিষিদ্ধ করার পথে হাঁটতে চাইছে না রাজ্য সরকার।

সামনেই বাংলার ২১ এর নির্বাচন। মোট ৮ দফায় ২৭ শে মার্চ থেকে শুরু হবে টানা নির্বাচন। চারদিকে পালাল দফিয়ে চলছে প্রচার। চলছে সেলের কেনাকাটা। চলছে আনন্দও হুল্লোড়। আর যত আলগা হচ্ছে আমাদের মুখের মাস্ক, আর দূরে যাচ্ছে স্যানিটাইজারের বোতল ততই সুযোগ বুঝে ‘চরিত্র’ বদলে করোনা ফের থাবা বসাতে শুরু করেছে বাংলার নানা প্রান্তে। বিশেষ করে কলকাতা, হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগনায়। চিকিৎসকদের বক্তব্য, বাংলার পরিস্থিতি গত একমাস ধরে ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তবে বিশেসজ্ঞদের মতে অবস্থা এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। করোনাকে হারাতে হলে মানুষকে আবার লকডাউন পর্বের মতোই সচেতন হতে হবে।

ভোটের মরসুমে প্রশাসনকেও বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, নির্বাচনী মরসুমে রাজনৈতিক প্রচারে করোনা, মাস্ক এবং দূরত্ববিধি নিয়ে আরও বহুগুণ সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। এই ভোটের সময়ে আপাতত সতর্কতা এবং কড়াকড়ি বাড়ানোই প্রধান এবং প্রথম লক্ষ্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ের জন্য একাধিক প্রটোকল জারি করেছে সরকার। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মঙ্গলবারেই রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। কিন্তু এক মাস আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল না। অনেকটা ‘কাবু’ হয়ে গিয়েছিল করোনাভাইরাস। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ১৮৯ জন। কয়েকদিন তার আশপাশেই ঘোরাফেরা করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। তখন অবশ্য মহারাষ্ট্র, কেরল সহ দেশের নানা প্রান্তে সংক্রমিত হচ্ছেন বহু মানুষ। গত ৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গে ২২৫ জন আক্রান্ত হন। এর পর ধীরে ধীরে বেড়েছে সংক্রমণ। গত ১৭ মার্চ আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩০৩ জন। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী কলকাতা শহরেই গড়ে দৈনিক আক্রান্ত হচ্ছেন দেড়শোর আশপাশে মানুষ। হাওড়া এবং দুই ২৪ পরগনাতেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

ভোটের আবহে ভয়ের বার্তা! করোনায় গতবছরের পুনরাবৃত্তি দেখছেন চিকিৎসকেরা। এর মধ্যেই কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম হাতজোড় করে মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। লালবাজারের তরফে থানাগুলিকে করোনার বিষয়ে নজরদারি আরও বাড়ানোর বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও মানুষ ভয় পাচ্ছেন না। সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক বুধবার বলেন, এক দিকে যখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে, তখন কিন্তু সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে শয্যার সংখ্যা কমছে। তিনি আরও বলেন “মানুষের এবার ভয় পাওয়া উচিত। কারণ, পরিস্থিতি রোজই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এখন সচেতন না হলে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ কিন্তু সুনামি হয়ে আছড়ে পড়তে পারে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন