নজরবন্দি ব্যুরোঃ সেচ দফতরে দুর্নীতি – তৃণমূলে ফিরে জনসেবা, অবশেষে মুখ খুললেন ডোমজুড়ের প্রাক্তন বিধায়ক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে ভোট পর্ব চলাকালীন এবং তাঁর আগে যারা তৃণমূল ছেড়ে মানুষের জন্যে কাজ করার তাগিদে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে তাঁদের মধ্যে অনেকে ইতিমধ্যেই দল ছেড়েছেন। অনেকে আবার তৃণমূলে ফিরতে চেয়ে আবেদন করেছেন রীতিমত ক্ষমা চেয়ে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকেই দলে ফেরায়নি তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ মোদি-শুভেন্দু বৈঠকের মূল টপিক ৩৫৬ ধারা! তৃণমূল বলছে সবকিছু বাগবাজারের রসগোল্লা নয়


এদিকে রাজ্যে বিজেপির ভরাডুবি এবং ডোমজুড়ে পরাজয়ের পরে বিজেপির সঙ্গে রাজীবের তেমন যোগাযোগই নেই। আলোচনা সভা তো দূরের কথা, ফোনেও বার্তালাপ নাকি বন্ধ। কিন্তু কেন? দলীয় সূত্রে খবর, রাজীব পুরনো দল তৃণমূলে ফেরার চেষ্টা করছেন। ফেসবুক পোস্টে প্রায় প্রকাশ্যে দলবিরোধী মন্তব্য করে তৃণমূলের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজীব। ঘুরিয়ে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন দলনেত্রী কে। কিন্তু মুশকিল হল তার নিজের খাসতালুকেই পোস্টার পড়েছে ‘গদ্দার’ কে দলে ফেরানো যাবে না বলে!
সেচ দফতরে দুর্নীতি ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের রোষের মুখে পড়েছেন রাজীব। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। প্রাক্তন দলের সহকর্মীরা গদ্দার বলছেন অন্যদিকে নতুন দল বিজেপি সমর্থক, নেতারা বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁকে! রাজনীতির সংকটজনক আঙিনায় মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজীব। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম তাঁর কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল। বিতর্কিত ফেসবুক পোস্টের পর মুখ খুললেন বিজেপি নেতা।
গতকাল রাজীবের ফেসবুক পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় হাওড়ার অন্য এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা তথা রাজীবের যুযুধান প্রতিপক্ষ অরূপ রায় বলেছেন, “এসব অভিনয় হচ্ছে।” অন্যদিকে, সেচ দফতরের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব কিছু ইস্যুতেই রাজীব কে প্রশ্ন করা হয় এদিন। যদিও খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর পাওয়া যায়। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এখন আমি কিছু বলব না।” পরে প্রয়োজন হলে সাংবাদিক সম্মেলন করব।


উল্লেখ্য, গতকাল বিজেপি কে হুঁশিয়ারি দিয়ে, কড়া বার্তা দিয়েছিলেন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী। রাজীব লিখেছিলেন, “সমালোচনা তো অনেক হল। মানুষের বিপুল জনসমর্থন নিয়ে আসা নির্বাচিত সরকারের সমালোচনা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরোধিতা করতে গিয়ে কথায় কথায় দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে বাংলার মানুষ ভালভাবে নেবে না। আমাদের সকলের উচিত রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে কোভিড ও ইয়াস- এই দুই দুর্যোগে বিপর্যস্ত বাংলার মানুষের পাশে থাকা।”







