নজরবন্দি ব্যুরোঃ মোদি-শুভেন্দু বৈঠকের মূল টপিক ৩৫৬ ধারা! ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে এমনটাই জানা গেছে সূত্র মারফত। ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসা থেকে আগামী দিনের দলের ব্লু প্রিন্ট কমবেশি সব থাকলেও মূল টপিক ছিল ভোট পরবর্তী হিংসার কারণে রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগ।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকে তথাগত! খবর জানেনা বঙ্গ বিজেপি


২১ এর নির্বাচনে তৃণমূল জিতে ফেরার পর থেকে বিজেপি লাগাতার অভিযোগ তুলেছে ভোট পরবর্তী হিংসার। বারবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অভিযোগে সরব হয়েছেন বঙ্গ বিজেপির নেতারা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে ছিলেন রাজ্যের রাজ্যপাল। কেন্দ্র থেকে দফায় দফায় এসেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এই পরিস্থিতিতে ভোটে হারের পোস্ট মর্টাম করতে গিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাওয়ার পদক্ষেপ হিসেবে বিজেপি হাতিয়ার করতে চাইছে ভোট পরবর্তী হিংসাকেই। ইতিমধ্যেই ১৮ জন বিজেপি সাংসদ চিঠি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতিকে। গতকাল অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়েও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা দেশের রাজধানীতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, বাংলার পরিস্থিতি ৩৫৬ ধারা জারি করার পরিস্থিতির থেকেও খারাপ।
আজ সকালে কৃষি মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু। বৈঠক করেন শুভেন্দু। বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, ‘৪৫ মিনিট ধরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা হয়েছে।’ সূত্রের খবর বৈঠকে মূল মাত্রা পেয়েছিল রাজ্যে ৩৫৬ ধারা প্রয়োগের আলোচনা।


যদিও বিজেপির তরফ থেকে বারবার দিল্লি এবং রাষ্ট্রপতি শাসনের কথার প্রেক্ষিতে গতকালই বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন বাংলায় বারবার দিল্লি আর ৩৫৬ ধারার জুজু দেখিয়ে কোন লাভ হবেনা। সে নিয়ে দিন ভর বিতর্ক চলেছে রাজনীতির ময়দানে। তবে এবার ৩৫৬ ধারা নিয়ে মুখ খুলেছে তৃণমূল। তৃণমূলের নেতাদের মতে তাহলে কী ৩৫৬ ধারা অতো সহজলভ্য? চাইলেই লাগু করা যায় ?
ঘাসফুল শিবিরের নেতা সুখেন্দুশেখর রায় বিজেপির এই ‘৩৫৬ ধারা’ ইস্যুকে তীব্র কটাক্ষ করে লিখেছেন, “৩৫৬ ধারা প্রয়োগের বায়নাক্কা বাগবাজারের রসগোল্লা নয় যে চাইলেই পাওয়া যায়। গণতন্ত্রে মানুষের রায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যারা এই সাংবিধানিক রীতিনীতি মানতে চায় না তারা কর্তৃত্ববাদী তথা স্বৈরতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী। বাংলার জনগণ এমন অশুভ শক্তিকে সম্পূর্ণ পরাস্ত করেছে।”
কটাক্ষ করেছেন পার্থ চট্টপাধায়ও। তিনি লিখেছেন “বিধানসভা নির্বাচনে জনতার দরবারে পরাজিত হবার পর শুধুমাত্র হতাশাজনিত কারণে বাংলার সাধারনণ মানুষের ইচ্ছাকে পদদলিত করার লক্ষ্যে যারা ৩৫৬-র কথা বলছেন তারা আসলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাইছেন।”







