নিজস্ব প্রতিনিধি শিলিগুড়িঃ রবিবার তিন দিনের দার্জিলিং সফরে এলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এদিন বাগডোগরা এয়ারপোর্ট নেমে সোজা চলে যান দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে। তিন দিনের সফরে এসেছেন রাজ্যপাল এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি একাধিক মন্তব্য করেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর।
আরও পড়ুনঃ থানার সামনে গিয়ে বসব বুঝবে হুমায়ুন কবীর কি জিনিস, পুলিশকে হুঁশিয়ারি বিধায়কের
এদিন সকাল ১০টা বেজে ২০ মিনিট নাগাদ বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে রওনা দেন সোজা দার্জিলিংয়ের উদ্দেশ্যে। জানা গিয়েছে সেখানে থাকাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। সেইসঙ্গে আগামীকাল শহিদ সেনা জওয়ান সতপাল রাইয়ের বাড়িতেও যেতে পারেন রাজ্যপাল। সেখান থেকেই আগামী ৩১ ডিসেম্বর কলকাতায় ফিরে আসতে পারেন তিনি।
তবে এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হয়ে তিনি বলেন, “যে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি খুবই চিন্তা জনক। প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থা ভেঙে সাংবিধানিক ব্যবস্থার প্রকাশ্যে অনাদর করা হচ্ছে। এটা বরদাস্ত করা যাবে না। রাজ্যপাল হিসেবে আমার দায়িত্ব সংবিধানকে রক্ষা করা। আমি সেই চেষ্টাই করে চলছি। মুখ্যমন্ত্রী এবং বিধানসভার অধ্যক্ষকে একাধিকবার ডেকে পাঠিয়েছি কিন্তু তারা আলোচনার একটা বিন্দু আমার সামনে রাখতে পারেনি। বিধানসভার অধ্যক্ষ কে নিজের নিজের আসনের মর্যাদা রাখা উচিত। তিনি নিজের দায়িত্ব এবং অধিকারের বিষয়ে অনভিজ্ঞ। আইন কি বলে রাজ্যপাল যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তাকে না জানিয়ে কি উপাচার্য নিয়োগ করা যেতে পারে? দেশে কোথাও এমন আইন নেই।”
এখানেই শেষ নয় তিনি আরও বলেন, “রাজ্যপাল কে না জানিয়ে যতগুলি নিয়োগ হয়েছে সেগুলিকে পুনর্বিবেচনা করতে হবে না হলে আমকে কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। আমি খুবই আশ্চর্য হলাম যখন যখন শিক্ষা মন্ত্রী আমার সাথে আলোচনা না করে মুখ্যমন্ত্রীকে তার আচার্য করবে। আপনার এক কাজ করুন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যপাল বানিয়ে দিন। তখন আপনাদের শান্তি হবে। মুখ্য সচিব এবং অতিরিক্ত অতিরিক্ত মুখ্য সচিব ওরা দুজনেই মোমের পুতুল। ওদের সাথে আলোচনা করে কোন লাভ হয় না। এর পাশাপাশি তিনি আরও যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন যা একটি সাংবিধানিক সংস্থা সেটি এখন রাজ্য সরকারের একটি অঙ্গ হয়ে গিয়েছে। সিসিটিভি বিষয়ে আমি সব রকম তথ্য চেয়েছি। আমি নিশ্চিত এই ধরনের ঘটনা আমি আগে আর হতে দেব না।”
রাজ্যে সাংবিধানিক অবমাননা অব্যাহত, বিস্ফোরক রাজ্যপাল

হাওড়া পুরসভা প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, বিভাজন ও বালি পুরসভা নিয়ে কোনো কথাই হয়নি। যে বিল নিয়ে বলা হচ্ছে রাজ্যপাল অনুমতি দিয়েছে এই কথা একেবারে মিথ্যে। আমি হাওড়া পুরসভা বিষয়ে কিছু তথ্য চেয়েছি রাজ্য সরকারের কাছে কিন্তু রাজ্য সরকার কোনো তথ্যই দেয়নি।



