নজরবন্দি ব্যুররোঃ অত্যন্ত সংকটের মুহুর্ত, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বেল রাজ্যের রাজ্যপাল। চারপাশের পরিস্থিতি দেখে তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজ্যপাল হিসেবে বাড়িতে বসে শুনতে পারবেন না এসব, আর তার পরেই বেরিয়ে পড়েন সরেজমিনে তদন্তে। নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই রাজ্যে চলছে ভোট পরবর্তী হিংসা। গেরুয়া শিবিরের তরফ থেকে এর জন্য বারবার শাসক দলের দিকেই নিশানা করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য বনাম রাজ্যপাল! ধনখড়’কে নিশানা করে সায়নীর তোপ, গান্ধী হওয়ার চেষ্টা করছেন


অপর দিকে ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী হিংসা নিবারণে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, আদালতের তরফ থেকেও প্রসংশা করা হয়েছে তাঁর কড়া পদক্ষেপের। মাঝে কেন্দ্র থেকে কেন্দ্রীয় দল এসেছে পরিস্থিতি বিচারে। তার পরেই এবার রাজ্যপাল হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছেন জগদীপ ধনখড়। গত পরশু গিয়েছিলেন শীতল্কুচি, সেখান থেকে ফিরে গত কাল গিয়েছিলেন আসাম। ঘর ছাড়া দের ঘরে ফিরিয়ে আনতে। আর তার পরেই কাল নিজেই ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন আজ যাবেন নন্দীগ্রামে।
গোটা নির্বাচন এবং তার পরবর্তী সময়েও এই মুহুর্তে রাজ্যের কেন্দ্রবিন্দু নন্দীগ্রাম। ভোট-প্রার্থী-ফফাফল সব মিলিয়ে নন্দীগ্রামের পরতে পরিতে উত্তেজনা। আজ সেখানেই সরেজমিনে পরিস্থিতি বিচারে গিয়েছেন রাজ্যের রাজ্যপাল। আর সেখানে গিয়েই নিজের গত দুদিনের মন্তব্যের বিতর্কের ওপর কার্যত ঘি ঢাললেন তিনি। সোজা সাপ্টা নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার সরকারকে। সকাল থেকে নন্দীগ্রাম পরিদর্শনে বেলা বাড়তেই রাজ্যপাল জানিয়েছেন, ভোট মিটলেও নন্দীগ্রামে হিংসার পাট চুকে যায়নি।
ট্যুইটের বার্তা মতোই আজ সকাল ১০টা নাগাদ আগে বিএসএফ-এর হেলিকপ্টারে হরিপুরের অস্থায়ী হেলিপ্যাডে পৌঁছন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তাঁকে অভ্যর্থনা জানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী, কিছুক্ষন বাক্যালাপের পর এলাকা পরিদর্শন করেন তিনি। আর তার পরেই নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “এক দিকে কোভিড, অন্য দিকে নজিরবিহীন ভাবে ভোট পরবর্তী হিংসা, যা কি না সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণ। এই দুইয়ের জেরে বাংলা অত্যন্ত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের পর এই ধরনের হিংসার কথা কোনও দিন শুনিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ, বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করার সময় এসেছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন।’


অত্যন্ত সংকটের মুহুর্ত, সঙ্গে আরও জানান, ‘‘অত্যন্ত সঙ্কটের মুহূর্ত। রাতে ঘুমোতে পারছি না আমরা। আমরা জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির উপর বসে রয়েছি। ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন মানুষ। কটূক্তি শুনতে হচ্ছে তাঁদের, প্রাণহানি, ধর্ষণ, লুঠতরাজ এবং তোলাবাজির ঘটনা ঘটছে অহরহ।’’ আজকে তিনি বাকি এলাকা পরিদর্শন করবেন বিজেপি বিধায়ককে সঙ্গে নিয়েই। যদিও এর আগে যে কয়েক জায়গায় গিয়েছিলেন সব জায়গাতেই বিজেপির নেতা মন্ত্রিদের সঙ্গেই দেখা গিয়েছে তাঁকে, সে নিয়ে বিতর্কও হয়েছে প্রচুর। তৃণমূল সহ অবিজেপি দল্গুলি ইতিমধ্যেও কটাক্ষ করে বলেছেন তিনি রাজ্যের রাজ্যপাল কম বিজেপির রাজ্য সভাপতি বেশি।







