গত বৃহস্পতিবার সকালে প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বাম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তারপরের দিন শুক্রবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেহ নিয়ে উদ্দিন অন্যান্য জায়গায় জনগণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়। প্রচুর মানুষ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। জন প্লাবন তৈরি হয় কলকাতার রাজপথে। তারপরে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কারণ বুদ্ধ বাবু তাঁর দেহ দান করেছিলেন। আর আজ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মরণসভা হবে ২২শে আগস্ট। তবে কোথায় হবে তা এখনো ঠিক করা হয়নি।
এই খবর জানিয়েছেন রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে আমন্ত্রণ জানানো হবে না বলেই জানান সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মোঃ সেলিম। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে সেলিম জানান, “সিপিআইএমকে আরএসএস-র বুদ্ধিতে ও পুঁজিপতিদের অর্থে তৃণমূল তৈরি হয়েছিল। তাদের সম্রাজ্ঞীকে কেন সিপিএম ডাকতে যাবে? বুদ্ধবাবুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে যারা কাটা হয়েছিলেন, তাদের কেন ডাকা হবে? এই প্রশ্ন আশাই উচিত নয়”।


প্রশ্ন করা হয় সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মরণ সভার আয়োজন করা হয় সেখানে যদি আপনাকে আমন্ত্রণ জানানো হয় তাহলে সেখানে কি আপনি যাবেন? এর উত্তরে সেলিমের সাফ জবাব, “যিনি ক্ষমতায় আসার পর থেকে জেলার কোন প্রশাসনিক সভায় বিরোধী দলের জনপ্রতিনিধিদের ডাকেন না, যিনি বিরোধী দলের লোককে নিজের দলে নিয়ে পিএসসি চেয়ারম্যান করেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের বিন্দুমাত্র নিয়ম-কানুন যিনি মানেন না তিনি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্মরণ সভা করবেন এটা ভাবা যায় না”।
প্রসঙ্গত বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরেই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একদিন পূর্ণ দিবস ছুটি ঘোষণা করেছিলেন মমতা। অপরদিকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গান স্যালুটের মাধ্যমে চিরবিদায় জানানোর কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সব অনুরোধই আলিমুদ্দিন থেকে মানা করে দেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের যুক্তি ছিল রাজ্য সরকার গান স্যালুটের প্রক্রিয়া করতে চেয়েছিলেন বিধানসভায়। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী গান স্যালুটের পরে আর কোন কর্মসূচি করা যায় না। কিন্তু বুদ্ধবাবুর মরদেহ বিধানসভা থেকে আলিমুদ্দিনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এবং তারপরেও বেশ কিছু কর্মসূচি ছিল। তাই মমতার প্রস্তাব বাতিল করেছিল আলিমুদ্দিন।







