সোনাঝুরিতে দোল উৎসব নিয়ে আগের নিষেধাজ্ঞা এখন অতীত। প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্তে রঙের আনন্দে মেতে উঠেছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা জানিয়েছেন, সোনাঝুরিতে রঙ খেলার ওপর কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, বরং সবাই দোল খেলতে পারেন নির্দ্বিধায়।
প্রথমে বনদপ্তর থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল যেখানে পরিবেশের সুরক্ষা ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তার কথা বলে রঙ খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক শুরু হলে রাজ্য সরকার নতুন ঘোষণা করে— শান্তিনিকেতন ও বোলপুরের সব জায়গায় দোল খেলা যাবে।


প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা
দোল উৎসব নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাণা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দোল উৎসবে শান্তি বজায় রাখতে প্রায় ৫০০ জন পুলিশ মোতায়েন থাকবে। সাধারণ মানুষ যেন নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে।
শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসবের রঙিন আবহ
শান্তিনিকেতনে বসন্ত উৎসব মানেই বর্ণিল আবির খেলা, নাচ-গান ও উৎসবের আমেজ। প্রতিবছরের মতো এবারও হাজারো পর্যটকের ভিড় জমেছে এই বাউলগানের শহরে। নিষেধাজ্ঞা না থাকায় দোল উৎসব আরও উচ্ছ্বাসে রঙিন হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের বার্তা অনুযায়ী, শান্তিনিকেতনের পরিবেশ ও পবিত্রতা বজায় রেখেই দোল খেলা হবে। বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


পরিবেশ সুরক্ষায় সতর্কতা
যদিও রঙ খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবুও প্রশাসন ও বনদপ্তর পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছে। রাসায়নিক মুক্ত আবির ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রকৃতির ক্ষতি না হয়।
উৎসবের আনন্দে সোনাঝুরির পর্যটন ব্যবসায় চাঙ্গা
নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সোনাঝুরি, বোলপুর ও শান্তিনিকেতনে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। হোটেল ও রিসর্টগুলি পর্যটকে ভরে উঠেছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শান্তিনিকেতনের দোল উৎসব শুধুমাত্র একটি রঙের উৎসব নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এবারের উৎসবে প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে পর্যটক ও স্থানীয়দের আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে উঠেছে।







