ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল বন্ধ ঘিরে বিতর্ক! কেন্দ্র ও এক্সকে নোটিস দিল দিল্লি হাই কোর্ট

ককরোচ জনতা পার্টির এক্স হ্যান্ডেল জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা। কেন্দ্র ও এক্সের কাছে জবাব চাইল আদালত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র এক্স (প্রাক্তন টুইটার) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। মামলার শুনানিতে আদালত আপাতত অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালুর নির্দেশ না দিলেও কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্স কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব চেয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত নামগুলির মধ্যে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল না হলেও অনলাইন জনপ্রিয়তায় দ্রুত নজর কেড়েছিল এই প্ল্যাটফর্ম। সেই জনপ্রিয়তার মধ্যেই হঠাৎ এক্স থেকে উধাও হয়ে যায় তাদের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্ট।

ঘটনার আগে একটি পোস্টে অভিজিৎ দীপক দাবি করেছিলেন, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের তুলনায় তাঁদের জনপ্রিয়তা কয়েক দিনের মধ্যেই বেড়ে গিয়েছে। সেই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি আর দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।

সরকারি সূত্রের দাবি, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁর দাবি, অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও উসকানিমূলক বা বেআইনি পোস্ট করা হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছিল। তাই হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

এই পরিস্থিতিতে দিল্লি হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেন অভিজিৎ। বিচারপতি পুরুশৈন্দ্র কুমার কৌরবের বেঞ্চে মামলার শুনানি হয়। আদালত তাঁকে রিভিউ কমিটির সামনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিজের বক্তব্য উপস্থাপনের অনুমতি দিয়েছে।

শুনানির সময় আদালত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণও করেছে। বিচারপতি জানান, রিভিউ কমিটি যদি মনে করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আইনসঙ্গত ছিল না, তাহলে কেন্দ্রীয় সরকার এবং এক্সকে অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে হবে।

একই সঙ্গে আদালত কেন্দ্র এবং এক্সের কাছে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, কোন ভিত্তিতে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আগামী ৭ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে। ততদিন এই বিতর্কের দিকে নজর থাকবে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী, আইনি মহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কারণ এই মামলার ফলাফল শুধু একটি অ্যাকাউন্টের ভবিষ্যৎ নয়, সামাজিক মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর