জয়পুর: সরকারি স্কুলের বেহাল দশা খতিয়ে দেখতে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party বা CJP) রাজ্যজুড়ে পরিদর্শন কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি স্কুলের চৌহদ্দিতে বাইরের লোকজনের প্রবেশ নিয়ে কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজস্থান শিক্ষা দফতর। রবিবার সন্ধ্যার ওই নির্দেশে বলা হয়েছে, প্রধান শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের আগাম অনুমতি ছাড়া কোনও বহিরাগত স্কুলে ঢুকতে পারবেন না। সরকারি দায়িত্ব পালনে আসা আধিকারিকদের অবশ্য এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।
নতুন নির্দেশিকায় শুধু প্রবেশের ক্ষেত্রেই নয়, স্কুলের ভিতরে ছবি তোলা, ভিডিয়ো করা, অডিয়ো রেকর্ডিং, পড়ুয়া বা শিক্ষকদের সাক্ষাৎকার নেওয়া এবং লাইভ স্ট্রিমিংয়ের উপরও অনুমতির শর্ত বসানো হয়েছে। অর্থাৎ, স্কুলের কোনও কার্যকলাপ ক্যামেরাবন্দি করতে গেলেও আগে প্রধান শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমতি নিতে হবে।
শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, স্কুলে ঢোকার আগে প্রত্যেক দর্শনার্থীকে ভিজিটরস রেজিস্টারে নিজের নাম-পরিচয় নথিভুক্ত করতে হবে। ফলে সরকারি স্কুলে অবাধ প্রবেশের বদলে এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট অনুমতি ও নথিভুক্তির প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
এই নির্দেশ জারির সময়টিই নজর কেড়েছে। কারণ, ঠিক তার আগেই CJP রাজস্থানের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখার ঘোষণা করেছিল। দলের জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রানকা জানিয়েছিলেন, রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে বেহাল বা অনিরাপদ স্কুল পরিদর্শনের অনুরোধ এসেছে। জয়পুর, আজমের, যোধপুর, উদয়পুর, ধৌলপুর, ভরতপুর, কোটা, বারমের এবং হনুমানগড়ের মতো জায়গা থেকে এমন অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছিল দলটি।
CJP-র এই কর্মসূচির নাম ‘School Thik Karo’। সরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর খামতি চিহ্নিত করা এবং প্রশাসনের কাছে তা তুলে ধরাই এই প্রচারের উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছে দলটি। এর আগে মহারাষ্ট্রেও একই কর্মসূচির আওতায় সরকারি স্কুল পরিদর্শন করে বিভিন্ন মৌলিক পরিষেবার ঘাটতির অভিযোগ সামনে এনেছিল CJP।
তবে রাজস্থান সরকারের নতুন নির্দেশে CJP-র পরিদর্শন কর্মসূচি কতটা প্রভাবিত হবে, সেটাই এখন প্রশ্ন। কারণ অনুমতি ছাড়া স্কুলে ঢোকা তো বটেই, পড়ুয়া বা শিক্ষকদের ভিডিয়ো, সাক্ষাৎকার কিংবা লাইভ সম্প্রচারের ক্ষেত্রেও স্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হবে।
শিক্ষা দফতরের এই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং স্কুলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তি রয়েছে; অন্যদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিকাঠামো নিয়ে জনসমক্ষে প্রশ্ন তোলা বা স্বাধীন ভাবে পরিস্থিতি নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই বিধি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
CJP-র তরফে অবশ্য ইঙ্গিত মিলেছে, সরকারি নির্দেশে তাদের ‘School Thik Karo’ কর্মসূচি থামছে না। ফলে রাজস্থানের সরকারি স্কুলে প্রবেশের নতুন নিয়ম এবং CJP-র পরিদর্শন অভিযান—দুইয়ের সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।



