মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে এক কোটি ফলোয়ার্স। তারপরই ভারতে ব্লক করে দেওয়া হল ককরোচ জনতা পার্টি-র X হ্যান্ডল। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সরাসরি এই পদক্ষেপকে “ভয়াবহ এবং অবিবেচক” বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ হঠাৎ করেই যুব সমাজের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বেকারত্ব, হতাশা এবং রাজনৈতিক বিকল্পের খোঁজ— এই তিনের মিশ্রণেই এই প্ল্যাটফর্মের উত্থান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
শুক্রবার শশী থারুর বলেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত, ব্যঙ্গ, হাস্যরস এবং ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা থাকা জরুরি। জনপ্রিয়তার কারণে কোনও প্ল্যাটফর্মের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় থারুর লেখেন, দেশের বহু তরুণ বর্তমান পরিস্থিতিতে হতাশ। কেন তাঁরা এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন, তা তাঁর অজানা নয়। তবে সেই কারণ দেখিয়ে X হ্যান্ডল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত তিনি সমর্থন করছেন না।
X-এ পুরনো অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়ার পর ইতিমধ্যেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। নতুন নাম দেওয়া হয়েছে ‘ককরোচ ইজ় ব্যাক’। নিষেধাজ্ঞার পরেও তাদের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি বলেই দাবি সমর্থকদের।
থারুর মনে করেন, এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত তরুণরা ভবিষ্যতে মূল ধারার রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। তাঁর কথায়, “একদিন এঁরাই পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন। তখন তাঁদের উপেক্ষা করা সম্ভব হবে না।”
বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের জন্যও এই পরিস্থিতি একটি সুযোগ বলে মনে করছেন কংগ্রেস সাংসদ। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুবসমাজের এই ক্ষোভ এবং ডিজিটাল সংগঠনের শক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত বিরোধীদের।
যদিও X-এ নিষিদ্ধ হয়েছে অ্যাকাউন্টটি, ইনস্টাগ্রামে এখনও সক্রিয় রয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সেখানে দ্রুত বাড়ছে ফলোয়ার্স সংখ্যা। শুধু সাধারণ নেটিজেন নন, রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি বলিউডের কিছু পরিচিত মুখও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি।
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর একটি মন্তব্যকে ঘিরে। এক মামলার শুনানিতে বেকার যুবকদের ‘ককরোচ’ এবং ‘প্যারাসাইট’-এর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্য ঘিরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হয় প্রবল প্রতিক্রিয়া।
পরে অবশ্য প্রধান বিচারপতি জানান, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু ততক্ষণে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। আমেরিকায় পড়াশোনা করা ভারতীয় ছাত্র অভিজিৎ দীপকের উদ্যোগে তৈরি এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠছে বলেই মত অনেকের।



