কলকাতা: গঙ্গা ও গঙ্গার ঘাটকে দূষণমুক্ত রাখতে রাজ্যজুড়ে শুরু হল বিশেষ স্বচ্ছতা অভিযান। বুধবার সকালে কলকাতার বাগবাজার ঘাটে পৌঁছে নিজেই ঝাঁটা হাতে পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) এবং শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। গঙ্গা পরিষ্কার রাখার বার্তা দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল রাজ্য সরকারের নতুন কর্মসূচি।
বুধবার সকালেই বাগবাজার ঘাটে পৌঁছে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। এরপর ঘাট সংলগ্ন মন্দিরে গিয়ে বিগ্রহে মাল্যদান ও পুজো অর্চনা করেন। পরে গঙ্গার ঘাটের বিভিন্ন অংশ ঘুরে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনের পরই ঝাঁটা হাতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে নেমে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর সঙ্গে যোগ দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং তাপস রায় (Tapas Roy)। ঘাট চত্বরের বিভিন্ন অংশ থেকে আবর্জনা সরানোর কাজে অংশ নিতে দেখা যায় তাঁদের।
স্বচ্ছতা অভিযানে ঝাঁটা হাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্যবাসীর কাছে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে চায় সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুধু উন্নয়ন করলেই হবে না, তার সঙ্গে সমান গুরুত্ব দিতে হবে পরিচ্ছন্নতাকেও। রাজ্যের শহর ও গ্রামাঞ্চলকে আরও পরিষ্কার রাখার জন্য জনসচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গঙ্গা দূষণমুক্ত করার বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য, নদীকে পরিষ্কার রাখার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও জোরদার করা হবে। কেন্দ্রীয় ‘নমামী গঙ্গে’ প্রকল্পের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই গঙ্গার বিভিন্ন ঘাটে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
কয়েকদিন আগেই রাজ্য সরকারের তরফে পাঁচ দিনের স্বচ্ছতা অভিযানের ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী ১৭ জুন গঙ্গা পরিষ্কার অভিযানের দিন নির্ধারিত ছিল। কলকাতার একাধিক গঙ্গার ঘাটে একযোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাগবাজার ঘাট থেকে এদিনের কর্মসূচির সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, গঙ্গাকে পরিষ্কার রাখা শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, সাধারণ মানুষেরও সমান দায়িত্ব রয়েছে। রাজ্যজুড়ে চলতে থাকা এই স্বচ্ছতা অভিযানে আগামী দিনে আরও বেশি মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে বলেই আশাবাদী প্রশাসন।



