নজরবন্দি ব্যুরোঃ জাকির হোসেন হামলার ঘটনায় তদন্তে নামলো সিআইডি। বুধবার রাজ্য শ্রম দফতরের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের উপর হামলা হয়। মন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বোমাবাজি করা হয়। গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন তিনি। মন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় শুরু হল তদন্ত। ঘটনার তদন্তে নামল সিআইডি। বৃহষ্পতিবার সকালেই মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশনে পৌঁছায় তদন্তকারী দলটি। খতিয়ে দেখা হবে গোটা স্টেশন চত্বর।
আরও পড়ুনঃ পুরনো বিশ্বাস ফেরাচ্ছে বামেরা, ২১ এর শালবনিতে প্রার্থী সুশান্ত।


এদিন ঘটনা স্থলে ছড়িয়ে থাকা বিস্ফোরণের চিহ্ন গুলিও পরীক্ষা করেন তারা। পাশাপাশি রেললাইনের নেমেও সমস্ত বিষয়ে খতিয়ে দেখেন সিআইডি আধিকারিকরা। কথা বলবেন ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও। সূত্রের খবর, জঙ্গিপুর পুলিশের সাথেও এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা করবে তদন্তকারী দল। জানা যাচ্ছে, ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে উপইস্থিত হয়েছে ফরেন্সিক দলও। বিস্ফোরনের মাত্রা জানতে ঘটনার জায়গা পরীক্ষা করেন তারা।
প্রসঙ্গত, গতকাল রাতে কলকাতার উদ্যেশ্যে ট্রেন ধরার জন্য নিমতিতা স্টেশনে আসেন মন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমে ট্রেনের জন্য ২নং প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করা কালীন তার ওপর অ্যাটাক করা হয়। চারপাশ কাঁপিয়ে হয় বোমাবাজি। গুরুতর আহত হন মন্ত্রী। মন্ত্রীর সঙ্গে জখম হন তাঁর ২-৩ জন সঙ্গী।
জাকির হোসেন হামলার ঘটনায় তদন্তে নামলো সিআইডি। তাঁদের তৎক্ষণাৎ জঙ্গীপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। মন্ত্রীর শরীরে একাধিক স্থানে আঘাত লাগে। পায়ে ১৪ টি সেলাই করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। জাকির হোসেন শুধুমাত্র রাজ্যের মন্ত্রী নন তিনি একজন শিল্পপতিও বটে। গতকালই ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এলাকা সিল করে দিয়ে চলে চিরুনি তল্লাশি।


তৃণমূল মুখপত্র কুনাল ঘোষ জানিয়েছেন, এই ঘটনার পেছনে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল (পড়ুন বিজেপি) এর হাত রয়েছে। মন্ত্রী জাকির হোসেনকে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে থেকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয় বুধবার রাতেই। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। তাঁকে রাখা হয়েছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার ইউনিটে। এই গোটা পরিস্থিতির নজরে রাখছেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
এদিন এসএসকেএম হাসপাতালে জাকির হোসেনের সাথে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বব্দ্যোপাধ্যায়। মন্ত্রীর উপর হামলার বিষয়ে মমতা বলেন, “রিমোটের মাধ্যমে ঘটানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রেল স্টেশনে ঘটনাটি ঘটেছে। রেল স্টেশনের আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব রাজ্যের নয়। রাজ্য পুলিশকে ডাকলে তবে তারা এফআইআর করতে পারে।” রেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি জানি না এত বড় ঘটনার পরে রেল কী করে এটাকে এত ক্যাজুয়ালি নিচ্ছে।” এই হামলায় যারা গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁদের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা, এবং যাঁদের আঘাত কম তাঁদের এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।







