আমেরিকার সঙ্গে তীব্র শুল্কযুদ্ধের আবহে এবার অভ্যন্তরীণ সঙ্কটে আরও চাপে চিন। দেশের সামরিক নেতৃত্বে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিলেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চিনের অন্যতম প্রভাবশালী সেনানায়ক জেনারেল ঝাং ইউশিয়া-কে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, তিনি আমেরিকার কাছে চিনের অত্যন্ত সংবেদনশীল পরমাণু নথি পাচার করেছেন। শুধু তাই নয়, শি জিনপিংকে ক্ষমতাচ্যুত করার ছক কষার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এই ঘটনায় চাঞ্চল্য আরও বেড়েছে কারণ, ঝাং ইউশিয়াকে এতদিন শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠতম বন্ধু ও বিশ্বস্ত সহযোগী বলেই মনে করা হত। সমর ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রেসিডেন্টের পরেই চিনা ক্ষমতার কাঠামোয় তাঁর অবস্থান ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।


শীর্ষ পদ থেকে অপসারণ, শুরু তদন্ত
চিনের প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭৫ বছর বয়সি ঝাং ইউশিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা Central Military Commission-এর ভাইস চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরানো হয়েছে। তিনি একই সঙ্গে People’s Liberation Army-র অন্যতম শীর্ষ জেনারেল ছিলেন।
পদচ্যুতির পরেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়। একসময় যাঁকে শি জিনপিংয়ের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হিসেবে দেখা হত, আজ তিনিই চিনা রাষ্ট্রযন্ত্রের নজরে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ সন্দেহভাজন।
কী অভিযোগ উঠেছে ঝাংয়ের বিরুদ্ধে?
চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শনিবার জানিয়েছে, ঝাং ইউশিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর নিয়মভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। যদিও সরকারি বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি সংক্রান্ত অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রযুক্তিগত নথি আমেরিকার কাছে পাচার করছিলেন তিনি।


এই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গও। দাবি, মার্কিন সংস্থার কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিনিময়ে এই নথি হস্তান্তর করা হয়েছিল।
তদন্তে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য
সূত্রের খবর, রাষ্ট্রায়ত্ত China National Nuclear Corporation-এর প্রাক্তন জেনারেল ম্যানেজার গু জুন-এর বিরুদ্ধে চলা তদন্তের সময়ই ঝাং ইউশিয়ার ভূমিকা সামনে আসে।
ঝাংয়ের বিরুদ্ধে দলের ঐক্য নষ্ট করা, উপদলীয় রাজনীতি চালানো এবং নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিপুল অর্থ সংগ্রহের অভিযোগও উঠেছে। চিনের সামরিক ইতিহাসে এত উচ্চপর্যায়ের একজন সেনানায়কের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ও পদচ্যুতি নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শি জিনপিংয়ের বার্তা কী?
এই সিদ্ধান্তকে শুধু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান হিসেবে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। অনেকের মতে, এটি শি জিনপিংয়ের ক্ষমতা সংহত করার আরও এক কড়া বার্তা। সামরিক বাহিনীর ভিতরে কোনও রকম দ্বিমত, উপদল বা সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ তিনি বরদাস্ত করবেন না—এই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিল বেজিং।
আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংঘাতের সময়ে এই ঘটনা চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড়সড় অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



