নজরবন্দি ব্যুরোঃ অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল খোলার পর ধীর গতিতে হলেও ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা। এবার ছোটদের জন্যও স্কুল খোলার ভাবনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সরকারি এক অনুষ্ঠানমঞ্চ থেকে এ কথাই জানালেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের কোভিড সংক্রমণ কমতেই ফের খুলে গিয়েছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর সরকারি, বেসরকারি স্কুল সেই নির্দেশ মেনেই স্কুল খুলেছে।
আরও পড়ুনঃ কৃষক খুনে অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে, জামিন দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘স্কুলগুলি চালু হয়েছে। পঞ্চম থেকে সপ্তম শ্রেণি পাড়ায় পাড়ায় শিক্ষালয় তৈরি করে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। পাড়ায় পাড়ায় ক্লাস চলছে। আর একেবারে ছোটদেরটা আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করে। যদি কোভিডটা একেবারেই সমস্যার কারণ না হয় খোলা হবে। কারণ আবার কী একটা আসবে বলছে। সেটার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সেটা যদি না হয় তা হলে অন্তত ছোট ক্লাস যেগুলো ৫০ শতাংশ পড়ুয়া নিয়ে ক্লাস করানো যায় কি না স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখতে হবে।’

কোভিড মহামারীর কারণে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০২০ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো রাজ্যের স্কুলগুলি বন্ধ করে দিয়েছিল। এরপর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের জন্য স্কুল চালু করেছিল সরকার। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন এবং সেই সময় কোভিড পরিস্থিতির কারণে ফের বন্ধ হয়ে গিয়েছিল স্কুলের দরজা। সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সময়কালে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আবার বন্ধ করতে হয়েছিল স্কুল।
এরপর ২০২১ সালের নভেম্বরে আবার শুরু হয়েছিল নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর ক্লাস। কিন্তু তৃতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত ৩ জানুয়ারি ফের রাজ্যে বন্ধ হয়েছিল সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অবশ্য খুদেরা স্কুলে যেতে পারেনি বহুদিন।
কীভাবে কোভিড বিধি মেনে ঠিকমতো ক্লাস করা যাবে, তা নিয়ে কিছুটা চিন্তা থাকলেও অবশেষে স্কুল খোলায় খুশি অধিকাংশ অভিভাবক থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা। নির্দেশ অনুযায়ী, ক্লাস শুরুর আধ ঘন্টা আগে ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে পৌঁছে যেতে হচ্ছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির প্রাক্টিক্যাল ক্লাসও শুরু হয়েছে। এবার ছোটদের স্কুল খোলা নিয়েও আশার কথাই শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শীঘ্রই খোলা হবে ছোটোদের স্কুল, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

শিক্ষাবিদ দেবাশিস সরকার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এই কথা তো আমরা গত কয়েকদিন ধরেই বলছি। এই চিন্তাভাবনাকে ভীষণভাবে স্বাগত জানাচ্ছি। অতিমারিতে ছেলে মেয়েরা যে জাড্যতার মধ্যে চলে গিয়েছে সেটা থেকে ওদের বের করে আনতে হবে। কখনওই একদিনে সমস্ত ক্লাসের ছেলে মেয়েদের স্কুলে আসবে না। প্রায় দু’ বছর ধরে স্কুল বন্ধ। ফলে ওদের স্কুলে আনানোর ক্ষেত্রে ক্লাস ভাগ করে, রোটেশন মেনেই এগোনো ভাল। আমরা আশা রাখছি শিক্ষা ক্ষেত্রে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এই উদ্যোগ তা কাটিয়ে তুলবে।’



