প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কেরলের ওয়েনাড় কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়বেন। রায়বরেলির পাশাপাশি এবারের লোকসভায় এই কেন্দ্র থেকেও সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ভোটে জেতেন রাহুল গান্ধী। কিন্তু বোনকে ওয়েনাড় ছেড়ে দিচ্ছেন তিনি। এদিকে আবার, বৃহস্পতিবার নবান্নে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম। সূত্রের খবর, তিনি তৃণমূল সুপ্রিমোকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হয়ে প্রচারে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: খুব তাড়াতাড়ি রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মীর, ঘোষণা মোদির


লোকসভা নির্বাচনের মূল পর্বে বারাণসীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিপক্ষে কংগ্রেসের তরফে প্রার্থী করার কথা ছিল প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে। যদিও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন বারাণসীতে তিনি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর হয়ে প্রচারে যেতে চান। যেহেতু প্রিয়াঙ্কা প্রার্থীই হননি, তাই প্রচারেও যেতে হয়নি মমতাকে। এবারে তৃণমূল নেত্রী আদৌ ওয়েনাড়ে প্রচারে যাবেন কিনা সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে কংগ্রেসের তরফে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তা নিশ্চিত।

বৃহস্পতিবার প্রায় ৪০ মিনিটের কাছাকাছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পি চিদম্বরমের মধ্যে বৈঠক হয়। এই বৈঠক ছিল একেবারে রুদ্ধদ্বার বৈঠক। বৈঠক শেষেও কেউ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষত কংগ্রেসের তরফে দূত হিসাবে চিদম্বরমকে পাঠানো হয়েছিল। কারণ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর বিরোধিতায় কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বিগত দিনে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল।
প্রিয়াঙ্কার হয়ে প্রচার করবেন মমতা? সেই প্রস্তাব দিতেই নবান্নে ছুটে আসেন চিদম্বরম



‘ইন্ডিয়া’ জোটের নাম দিয়েছিলেন মমতা। সেই জোট এবারের লোকসভায় যথেষ্ট ভালো ফল করেছে। কিন্তু, কেন্দ্রে এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে সিপিআইএম আর যা কোনওভাবেই মেনে নেবেন না বলে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি, রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটকেও ‘ভালো চোখে’ দেখছেন না মমতা। ফলে, কংগ্রেসের সঙ্গে একটা অদৃশ্য দূরত্ব হয়েছে। এবার সেই দূরত্ব মেটাতেই সক্রিয় হাত শিবির।
আগামী ২৪ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে লোকসভার প্রথম অধিবেশন। শুরু থেকেই এনডিএ সরকারকে কিভাবে চাপে রাখা যায় তা নিয়ে মমতার ‘বুদ্ধি’ চেয়েছেন চিদম্বরম। এবারের লোকসভায় এই রাজ্যেই বিজেপি সবচেয়ে ভালো ফল করবে বলে দাবি করেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লাগাতার প্রচার, ইডি-সিবিআই হানা, সন্দেশখালিতে নারী নির্যাতন ইস্যু- তৃণমূলকে সবদিক থেকেই কোণঠাসা করতে চেয়েছিল বিজেপি। সেখানে এই ফল যেটা দেখা যাচ্ছে তা একেবারেই ‘সহজে’ প্রাপ্ত নয়। তাই জোট ইন্ডিয়ার শরিক হিসাবে তৃণমূলকে পাশে পেতে কংগ্রেস আগে থেকে উদ্যোগ শুরু করেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।







