তৃণমূল ছাড়লেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু, ভোটের কয়েক মাসের মধ্যেই ইস্তফা; রাজনীতি নিয়েও জল্পনা

বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্র কুমার বসু। কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দল ছাড়লেন নেতাজির প্রপৌত্র।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের চমক। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhas Chandra Bose)-র প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু (Chandra Kumar Bose) তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিলেন। বিজেপি ছেড়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সোমবার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি ইস্তফার কথা জানান। তবে ভবিষ্যতে সক্রিয় রাজনীতিতে থাকবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।

সোমবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-কে পাঠানো সংক্ষিপ্ত চিঠিতে চন্দ্র বসু জানান, তিনি অবিলম্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছেন। ইস্তফার কারণ হিসেবে তিনি শুধুমাত্র ‘ব্যক্তিগত কারণ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি দলের আগামী দিনের সাফল্যও কামনা করেছেন।

চন্দ্র বসুর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। কারণ, চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে বলেছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়া তাঁর ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল এবং তৃণমূলে যোগ দিয়ে তিনি সেই ভুল সংশোধন করছেন।

বিজেপি ছাড়ার সময় চন্দ্র বসু জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র নেতৃত্বে আস্থা রেখেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁর আশা ছিল, নেতাজির আদর্শ এবং বোস পরিবারের ভাবধারা সামনে রেখে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এমনকি বিজেপির মধ্যে ‘আজাদ হিন্দ মোর্চা’ গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি বলেই অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

উল্লেখ্য, চন্দ্র বসু ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। যদিও কোনও নির্বাচনেই তিনি জয় পাননি। একসময় তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সহ-সভাপতির দায়িত্বও সামলেছিলেন। ২০২০ সালে সেই পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরও বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হননি। নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তিনি আদৌ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, নাকি ভবিষ্যতে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন— সে বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেননি।

চন্দ্র বসুর ইস্তফা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর