রাষ্ট্রপতি সফর বিতর্কের রেশ! শিলিগুড়ির সিপি ও দার্জিলিঙের ডিএমকে ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র

রাষ্ট্রপতি সফর বিতর্কের মাঝেই শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ও দার্জিলিঙের জেলাশাসককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাইল কেন্দ্র। বিষয়টি নিয়ে নবান্নে শুরু হয়েছে আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফর ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্কের মাঝেই নতুন প্রশাসনিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলল। সূত্রের খবর, শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সি. সি. সুধাকর এবং দার্জিলিঙের জেলাশাসক মণীশ মিশ্রকে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চেয়ে রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্র। এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাষ্ট্রপতির সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রভাব রয়েছে কি না, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বিষয়ে নবান্নের কাছে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের তরফে আনুষ্ঠানিক চিঠি পৌঁছেছে। রাজ্য সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও খবর। যদিও এ নিয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব বলেন, এই বিষয়ে যা বলার রাজ্য সরকারই বলবে।

ঘটনার সূত্রপাত রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক উত্তরবঙ্গ সফরকে ঘিরে। একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি শিলিগুড়িতে গিয়েছিলেন। প্রথমে শিলিগুড়ির বিধাননগরে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও পরে সেই সভাস্থল বদলে বাগডোগরা বিমানবন্দরের কাছাকাছি গোঁসাইপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়।

এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বিধাননগরে অনুষ্ঠান হলে আরও বেশি মানুষ উপস্থিত থাকতে পারতেন। তবে কেন সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য ঘিরে দ্রুতই রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে। পাল্টা তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়, রাষ্ট্রপতির পদকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেন, রাষ্ট্রপতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

এই বিতর্কের আবহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের কাছ থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল বলে জানা যায়। সেই ঘটনার পরই এবার শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার এবং দার্জিলিঙের জেলাশাসককে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে চাওয়ার সিদ্ধান্ত সামনে এল।

এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে—এটি কি শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি সাম্প্রতিক কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতেরই প্রতিফলন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত