ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার।

ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার।
ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার। লোক দেখানো হোক বা আক্রান্ত হওয়ার ভয়। বিজেপিতে যোগ দেওয়া যে কেউ একাধিক দাবির সাথে দাবি রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দিতে হবে। বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকার ফলে এবং স্বরাষ্টমন্ত্রক হাতে থাকায় অমিত শাহ আবদার মিটিয়েছিলেন সর্বস্তরের আগতদের। কিন্তু ভোটে জেতা হয়নি, দখল করা যায়নি বাংলা। তাই এবার সেইসব নেতা বিশেষত রুপলী পর্দার তারকাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তুলে নিল কেন্দ্রীয় সরকার।

আরও পড়ুনঃ একতরফা তৃণমূল বিরোধীতা ভুল, ‘টুম্পা সোনা’ ব্রিগেডে এলেও ভোট দেয়নি! মানল সিপিআইএম।

বিজেপি-তে নবাগতদের মুড়িমুড়কির মতো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা দেওয়া নিয়ে সরগরম পদ্ম শিবিরের অন্দরমহল। বিজেপি সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারী, মুকুল রায় ‘জেড’ ক্যাটাগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান, তা বহাল আছে। ৬৬ জন নব নির্বাচিত বিধায়ক ‘এক্স’ ক্যাটিগরিতে নিরাপত্তা পাচ্ছেন। তিন বিধায়ক পান ‘ওয়াই’ ক্যাটিগরি। কয়েকজন সাংসদও বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা পান। এইসব নেতাদের নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা নেই, সমস্যা হল ভোটের আগে কচুরিপানার মত স্রোতে ভেসে আসা নবাগতদের নিরাপত্তা নিয়ে।

ভোটের আগে যোগদানের হিড়িয়ে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট বিজেপি নেতা রেকমেন্ড করতেন নিরাপত্তার বিষয়টি। যা ভোট লাভের আশায় তৎক্ষণাৎ অনুমোদিত হত অমিত শাহের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে। কিন্তু ভোটে শোচনীয় পরাজয়ের পর বাদ সেধেছে নিরাপত্তার বিষয়টি। যারা ভোটে হেরেছেন তাঁদের সবারই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে অভিনয় জগতের প্রার্থী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়, তনুশ্রী চক্রবর্তী, পায়েল সরকার, পাপিয়া অধিকারী থেকে হিরণ চট্টোপাধ্যায়রা ‘ওয়াই’ ক্যাটিগরির নিরাপত্তা পেয়েওছিলেন।

বিজেপি-র হয়ে প্রচারে নামা মিঠুন চক্রবর্তীকে দেওয়া হয় ‘ওয়াই প্লাস’ ক্যাটিগরির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। এ ছাড়াও অনেক প্রার্থী এবং নেতা আবেদন করেই নিরাপত্তা পেয়ে যান। শোনা যাচ্ছে সব্যসাচী দত্ত এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাও তুলে নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এক বিজেপি নেতার দাবি, ‘‘কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা অনেকের কাছেই তো স্ট্যাটাস সিম্বল। কেউ কেউ তো বন্দুকধারী জওয়ান পাওয়া যাবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরেই দলে এসেছিলেন।” এদিকে স্ট্যাটাস সিম্বল কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা তুলে নেওয়ায় অনেকেই ক্ষুব্ধ। অনেকেই ফিরতে চাইছেন তৃণমূলে।

ভোটে পরাজিত বিজেপি নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, তারকা প্রার্থী ছাড়াও কিছু মানুষকে ভোট পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছিল। ভোট শেষ, “তাই যারা নিরাপত্তা দিয়েছিল তারা হয়তো কৌশলগত কারণে নিরাপত্তা তুলে নিয়েছে। যাঁদের প্রয়োজন আছে তাঁদের নিরাপত্তা আছে এখনও। যাঁদের প্রয়োজন নেই বলে মনে করা হয়েছে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়েছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here