ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। তার মধ্যেই আচমকা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বিজেপি নেতা Dilip Ghosh। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠকের ঠিক আগেই তিনি দাবি তুললেন—এবার ভোটে বুথের ভিতরেও বাহিনী থাকা জরুরি।
বুথের ভিতরে বাহিনী না থাকলে ভোট ‘লুট’—দাবি দিলীপের
শনিবার কলকাতার ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “আমরা বহুবার দেখেছি, বাহিনী রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে আর বুথের ভিতরে ভোট লুট হয়। যদি বুথের ভিতরে বাহিনী থাকে, তবেই মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবে।” তাঁর দাবি, আগের একাধিক নির্বাচনে এই ধরনের ঘটনা চোখের সামনেই ঘটেছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাহিনীর অভাব নয়—দায়িত্ব পালনে গাফিলতিই আসল সমস্যা। “পঞ্চায়েত ভোটেও যথেষ্ট বাহিনী ছিল। কিন্তু তারা বাসে ঘুরে বেড়িয়েছে, কেউ কেউ আবার ঘুরতেও গেছে। ভোট তো বুথে হয়,”—বলেন তিনি।
ভোটার পরিচয়পত্র ও নজরদারির দাবি
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে আসে। তাঁর মতে, নতুন ভোটার আইডি কার্ড ছাড়া কাউকে বুথে ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি বুথের ভিতরে কী হচ্ছে, তা বাহিনীর সরাসরি নজরদারিতে থাকলেই ‘নিরপেক্ষ ভোটাধিকার’ সম্ভব।
তৃণমূলের পাল্টা প্রতিক্রিয়া
দিলীপের এই মন্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ শাসকদল All India Trinamool Congress। তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী বলেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী হোক বা অন্য যে কোনও বাহিনী—ভোট হলে ফল বদলাবে না। তৃণমূল মানুষের সমর্থন নিয়েই জিতবে।”


বিজেপির অন্দরকোন্দল ও নির্বাচনী চাপ
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বিজেপির এই সুর নতুন নয়। তবে এবারের প্রেক্ষাপট আলাদা। সাম্প্রতিক নির্বাচনে আশানুরূপ ফল করতে না পারা, দলের অন্দরের কোন্দল, সংগঠনিক দুর্বলতা এবং এসআইআর ইস্যু—সব মিলিয়ে চাপে রয়েছে বঙ্গ বিজেপি। তাই ভোটের আগে নিরাপত্তা ও বাহিনী ইস্যু সামনে এনে পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে আনার চেষ্টা চলছে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।
কমিশনের বৈঠকের দিকে নজর
সোমবার Election Commission of India-র সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক রয়েছে। তার ঠিক আগেই দিলীপ ঘোষের এই প্রকাশ্য দাবি ভোটমুখী বাংলায় নতুন করে জল্পনা বাড়াল। কমিশনের বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেটাই এখন নজরে রাজনৈতিক মহলের।







