নজরবন্দি ব্যুরোঃ টাকা নিয়ে বসে আছি, টিকা দিচ্ছেনা! এভাবেই বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাসত ও বিধাননগরে মঙ্গলবারের নির্বাচনী সভা থেকে রাজ্যে কোভিডের টিকাকরণ নিয়ে এ বার কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মমতা বলেন, ‘‘আমি টাকা নিয়ে বসে আছি, দিল্লি টিকা দিচ্ছে না। তাই আমি যতটুকু জোগাড় করতে পেরেছি, বুধবার থেকে কলকাতা ও পুর শহরগুলিতে বিনা পয়সায় টিকা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব।”


তার কথায়, “যার যার প্রয়োজন, যেখানে যেখানে ওয়ার্ড অফিস আছে, সেখান থেকে টিকা পাবেন। শুধু নির্বাচনের দিন ৪৮ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে, ইলেকশন শেষ হলে তার পর আবারও চালু হবে।’’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সমস্ত রাজ্যবাসীকে ফ্রিতে টিকে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছেন চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু কেন্দ্র টিকা সরবরাহ করেনি। মমতার কথায়, ‘‘আপনারা জানেন, আমি ফেব্রুয়ারি মাসে মোদীকে চিঠি লিখেছিলাম।
বলেছিলাম, সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে টিকা দেব, আপনারা রাজ্যে টিকা পৌঁছে দিন। কিন্তু দিল না।’’ মমতার যুক্তি, ‘‘যখন করোনার প্রকোপ কমে এসেছিল, তখন সবাইকে টিকা পৌঁছে দিতে পারলে সংক্রমণ অনেকটাই কমত। কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। তাই দেশে নতুন করে করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পিছনে দায়ী নরেন্দ্র মোদীর সরকার ও তার স্বাস্থ্য মন্ত্রক।’’


গুজরাতের টিকাকরণ প্রসঙ্গেও আক্রমনে নামেন মমতা। বলেন, ‘‘আমি সংবাদমাধ্যমে দেখেছি, গুজরাতে বিজেপি-র দলীয় কার্যালয় থেকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি টিকার কী বোঝে? আমাদের এখানে এ সব হয় না। সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হয়।’’ উল্লেখ্য রাজ্য সরকার বেসরকারি অফিসগুলোতেও টিকাদানের সম্মতি দিয়েছে।
মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘গোটা রাজ্যে টিকাকরণের গতি বাড়াতে হবে। আগে মানুষ টিকা নিতে ভয় পেতেন। কিন্তু এখন যে ভাবে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজ্য সরকারি অফিসগুলিতে আগেই কোভিডের টিকা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ বার বেসরকারি অফিসগুলিতেও সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’’







