একদিকে যখন ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভারতের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ চলছে একের পর এক হিংসার ঘটনা। আর এই হিংসার ফলে বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতন ঘটেছে। আর সেই একই মুহূর্তে লন্ডনে জ্বলছে হিংসার আগুন। অশান্ত ব্রিটেন। অভিবাসন বিরোধী আন্দোলনের জেরে উত্তপ্ত একাধিক এলাকা। ঘটনার সূত্রপাত বেশ কয়েকদিন আগেই। ব্রিটেনের সাউথপোর্টে একটি নাচের ক্লাসে ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়েছিল এক দুষ্কৃতী।
সেই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হয় আট শিশু-সহ ১০ জন। তারপর থেকেই ব্রিটেন জুড়ে অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। সাউথপোর্টের ওই ঘটনার পর রটিয়ে দেওয়া হয় নাচের ক্লাসে হামলাকারী একজন অভিবাসী ও ইসলামিক কট্টরপন্থী। যদিও পুলিশের তরফে জানানো হয়, হামলাকারীর জন্ম ব্রিটেনেই। এটা কোনও জঙ্গি হামলা নয়। কিন্তু তাতে শান্ত থাকছেন না আন্দোলনকারীরা।
এই অবস্থায় লন্ডন ভ্রমণের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্কতামূলক পরামর্শ জারি করল ভারত। হিংসাপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ভারতীয় নাগরিকদের। এই ঘটনায় লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হয়েছে কঠোরভাবে। ভারতীয় পর্যটকদের সতর্ক করে স্থানীয় নিরাপত্তা সংস্থার নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “লন্ডনে আসা ভারতীয় নাগরিকদের ভ্রমণের সময় কোথাকার এবং যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যে সমস্ত এলাকায় গন্ডগোল বা হিংসার ঘটনা ঘটছে সেখানে যাতে না যাওয়া হয়”।
বৃটেনের রিভার পুল, ব্ল্যাকপুল, ম্যানচেস্টার সহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিক্ষোপকারীরা। আর এই বিক্ষোভ সময়ের সাথে সাথে বেড়েই চলেছে। হোটেলে আগুন লাগানো থেকে রাস্তায় বিক্ষোভ দেখানো সব ঘটনাই ঘটে চলেছে এই শহর গুলিতে। ইতিমধ্যেই প্রায় ১০০ জনের বেশি আন্দোলনকারী কে গ্রেফতার করেছে সে দেশের পুলিশ।
আর সেই খবর সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে বিক্ষোভ আরো বড় আকার রূপ নিয়েছে। এই ঘটনায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে করা বার্তা দিয়েছেন বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।



