ডেডলাইন পার, আরজি কর-কাণ্ডে ‘ফেল’ করবে CBI? সন্দেহ কুণালের

গত ১৩ অগস্ট আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে অর্পণ করে কলকাতা হাই কোর্ট। পার হয়েছে ছয়দিন। নতুন কেউ গ্রেফতার হয়নি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গত ১৩ অগস্ট আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে অর্পণ করে কলকাতা হাই কোর্ট। পার হয়েছে ছয়দিন। সেই যে কলকাতা পুলিশের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার তারপর আর কাউকে গ্রেফতার করেনি সিবিআই। তাহলে, এজেন্সির গোয়েন্দারা কি পারবেন এই রহস্যের সমাধান করতে? প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ।

৯ অগস্ট ভোরবেলা আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা রাজ্য। এই ঘটনায় প্রথমে তদন্ত করছিল কলকাতা পুলিশ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতারও করে তাঁরা। কিন্তু, রাজ্য পুলিশের ওপর বিশ্বাস ছিল না বিরোধীদের। হাই কোর্টে দায়ের হয় মামলা। আদালত সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের কিছু ‘লুকোবার নেই’ বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তিনি রবিবার অর্থাৎ ১৮ অগস্টের মধ্যে কলকাতা পুলিশকে তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন। না হলে সিবিআই-কে তদন্ত তুলে দেবেনও বলেন। কিন্তু, মুখ্যমন্ত্রীর সেই নির্দেশ কাজে আসেনি। তার অনেক আগেই সিবিআই-কে তদন্তভার দেয় আদালত। মমতা কেবল স্মরণ করিয়েছিলেন, সিবিআই-এর সাফল্যের হার ভালো নয়! বরং কলকাতা পুলিশের তিনি প্রশংসা করেন।

যত দিন পেরোচ্ছে আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে নাগরিক সমাজে ক্ষোভ বাড়ছে। বিজেপি এবং সিপিআইএম-এর তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। কিন্তু, এদিকে তদন্তের কী হবে? সঞ্জয় ছাড়া আর কাউকে কি গ্রেফতার করতে পারবে সিবিআই। এখনও পর্যন্ত সঞ্জয়কে টানা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন গোয়েন্দারা। কিন্তু, তাঁর বক্তব্যে অসংগতি মিলেছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। আজ আদালতে সঞ্জয়ের পলিগ্রাফি টেস্টের আবেদন জানিয়েছে এজেন্সি। অর্থাৎ, সঞ্জয় সত্য বা মিথ্যে বলছে কিনা তা এই পরীক্ষায় বোঝা যাবে।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় প্রথম থেকেই নাম উঠে আসছে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের। তাঁকে আজ নিয়ে টানা চারদিন জেরা করছেন গোয়েন্দারা। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেছে সিবিআই। আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার হলে থ্রি-ডি স্ক্যানিং পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। কুণাল বলছেন, “বাম-রাম রাজনীতি করছে এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে। এদিকে, সিবিআই-এর ডেডলাইন পার হয়েছে। কলকাতা পুলিশ যাকে ধরেছিল তার বাইরে একজনও গ্রেফতার হয়নি। আর সর্বোচ্চ দু-তিন দিন সময় দেওয়া যেতে পারে। সিবিআই-কে তদন্ত শেষ করতে হবে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত