পুলিশের FIR-এর পরও গ্রেফতার হননি অনুব্রত, এবার কেষ্টর জামিন খারিজে তৎপর CBI

বীরভূমের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে পুলিশের প্রতি হুমকির অভিযোগে মামলা, অডিও ক্লিপ ঘিরে নতুন বিতর্ক, গরু পাচার মামলায় আবারও সক্রিয় সিবিআই

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ফের একবার আইনি জটে। সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের সঙ্গে তাঁর একটি অডিও কথোপকথন ফাঁস হয়েছে, যেখানে তাঁকে স্পষ্টভাবে অশ্রাব্য ভাষায় পুলিশ অফিসারকে আক্রমণ করতে শোনা গেছে। প্রথমে সেই অডিও-র সত্যতা অস্বীকার করলেও পরে দলের রাজ্য সভাপতিকে পাঠানো এক চিঠিতে তা কার্যত স্বীকার করে নেন অনুব্রত

এই ঘটনার পর বীরভূম জেলা পুলিশ অনুব্রতের বিরুদ্ধে পুলিশকে হুমকি ও কুরুচিকর ভাষার ব্যবহার সংক্রান্ত মামলায় এফআইআর দায়ের করে। শনিবার বেলা ১১টায় বোলপুর এসডিপিও অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয় তাঁকে। কিন্তু অনুব্রতের আইনজীবীরা জানান, তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাজিরা সম্ভব নয়।

পুলিশের FIR-এর পরও গ্রেফতার হননি অনুব্রত, এবার কেষ্টর জামিন খারিজে তৎপর CBI

পুলিশের FIR-এর পরও গ্রেফতার হননি অনুব্রত, এবার কেষ্টর জামিন খারিজে তৎপর CBI
পুলিশের FIR-এর পরও গ্রেফতার হননি অনুব্রত, এবার কেষ্টর জামিন খারিজে তৎপর CBI

পরবর্তী নোটিসে রবিবার সকাল ১১টার মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হলেও, সেই সময়সীমার মধ্যেও অনুব্রত নিজে উপস্থিত হননি। বরং তাঁর ঘনিষ্ঠ গগন সরকার গিয়ে দাবি করেন, অডিও ক্লিপটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নতুন করে সন্দেহ ও বিতর্ক ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে, রাজ্য পুলিশ অনুব্রতের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কড়া কোনও পদক্ষেপ নেয়নি, যা নিয়ে আইনজীবীদের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, পুলিশের প্রতি হুমকি বা অশালীন ভাষার ব্যবহার জামিনের শর্তভঙ্গ হতে পারে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২২ সালের ১১ অগস্ট গরু পাচার মামলায় CBI অনুব্রতকে গ্রেফতার করে এবং পরবর্তীতে ইডি-ও তাঁকে হেফাজতে নেয়।

বর্তমানে অনুব্রত মণ্ডল জামিনে মুক্ত, তবে আদালত তাঁর উপর বেশ কিছু কঠোর শর্ত চাপিয়েছে—পাসপোর্ট জমা রাখা, সাক্ষীদের প্রভাবিত না করা, এবং বীরভূম বা দিল্লিতে থাকলে তা আদালতকে আগে জানানো।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, গরু পাচার মামলায় আবারও তৎপর হয়েছে সিবিআই। একাধিক সাক্ষীকে ইতিমধ্যেই ফোন করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পাশাপাশি, অনুব্রতের সাম্প্রতিক পুলিশকে হুমকি ও অশ্লীল ভাষা প্রয়োগের অভিযোগে এফআইআর হওয়া সত্ত্বেও গ্রেফতার না হওয়াকে সামনে রেখে, তাঁর জামিন খারিজের আবেদন জানাতে পারে সিবিআই।

সব মিলিয়ে ফের একবার তীব্র বিতর্কে অনুব্রত মণ্ডল। প্রশ্ন উঠছে—তিনি কি এতটাই প্রভাবশালী, যে পুলিশও তাঁকে ছুঁতে পারছে না?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর