নজরবন্দি ব্যুরোঃ সরকারি ভাবে নিষিদ্ধ হলেও, গাঁজা সেবনের প্রবণতা কিন্তু বিরল নয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে গাঁজা সেবনে হ্রাস পায় শুক্রাণুর সংখ্যা। ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটির করা একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এল এমনই তথ্য। এমনকি, শুধু গাঁজা সেবনকারী নিজে নন, প্রভাব পড়ে পরবর্তী প্রজন্মেও। গাঁজা মানুষের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। কারণ, গাঁজা মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে। গাঁজা সেবনের ফলে মানুষের শরীরের ধমনী ও শিরা অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুনঃ অভিষেকের নির্দেশ, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের বোন তনিমাকে বহিষ্কার তৃণমূলের।
গবেষকদের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবহৃত গাঁজা হ্রাস করেছে ইঁদুরের শুক্রাণুর সংখ্যা। শুধু একটি প্রজন্মে নয়, পরবর্তী একটি প্রজন্মের ইঁদুরেও দেখা গিয়েছে একই সমস্যা। কাজেই গাঁজা সেবনে শুধু মাদক সেবনকারী একা নন, আক্রান্ত হন তার পুত্রও। পাশাপাশি শুধু শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাসই নয়, গাঁজার প্রভাবে শুক্রাণুর গতি হ্রাস পায় বলেও অভিমত গবেষকদের। শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় সমস্যা তৈরি হয় সন্তানধারণে। যৌন সঙ্গমের পরেও সন্তান ধারণে অসফল হন, তা হলে তার কারণ হতে পারে এই রোগ। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
গাঁজা সেবনের কারণে মানসিক ও শারীরিক সব ধরনের ক্ষতি হয়। সামাজিক দক্ষতা কমে যায়। দীর্ঘদিন গাঁজা খেলে এর ওপর নির্ভরশীলতা তৈরি হয়। দিন দিন গাঁজা খাওয়ার মাত্রা অনেক বেড়ে যায়। গাঁজা সেবনকারীরা ভীষণ আবেগপ্রবণ হয়। কখনো অতি আনন্দে আত্মহারা থাকে। আবার কখনো মনমরা থাকে। অনেক সময় কোনো কিছু মনে রাখাতে পারে না। অর্থহীন কথাবার্তা বলে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়। চোখ লাল হয়ে যায়।
প্রথম দিকে খাওয়াদাওয়া বেশি করে। ধীরে ধীরে খাওয়ার রুচি একেবারে কমে যায়। রক্তচাপ কমে যায়। বুক ধড়ফড় করে। ধীরে ধীরে সবকিছু থেকে আনন্দ হারায়। নিজেকে সব সময় গুটিয়ে রাখে। ঘুমের নিয়ম বলে কিছু থাকে না। মানসম্মান ও ব্যক্তিত্ব নষ্ট হয়। হঠাৎ করে উত্তেজিত হয়। তখন অন্যকে আঘাত করে। অনেক সময় আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। বিনা কারণে অন্যকে সন্দেহ করে। স্বাস্থ্য ভাঙতে ভাঙতে দুর্বল হয়ে পড়ে। হৃদ্রোগ, ফুসফুস, লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একপর্যায়ে যৌনশক্তি নষ্ট হয়ে যায়।
যৌন জীবনে বিপত্তি আনতে পারে গাঁজা, প্রভাব পড়বে পরবর্তী প্রজন্মেও

গবেষকদের মতে, শেষ কয়েক দশকে বিভিন্ন কারণে প্রায় ৫৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা। শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পাওয়াকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অলিগোস্পার্মিয়া। প্রতি মিলিলিটার বীর্যে দেড় কোটির কম শুক্রাণু থাকলেই তাকে বলা হয় অলিগোস্পার্মিয়া। মানসিক চাপ, শুক্রাশয়ের সমস্যা, বিভিন্ন যৌন রোগ, ডায়াবিটিস, ক্যানসার সহ একাধিক কারণে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পায়। এ বার সেই তালিকায় যুক্ত হল গাঁজা সেবন।



