প্রার্থী পছন্দে মুখ্যমন্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল! অনুব্রত সম্পর্কে বিস্ফোরক ফিরহাদ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: নির্বাচন হোক বা না হোক, নানা কাজে বিভিন্ন ভাবে তৃণমূল সুপ্রিমো বুঝিয়ে দিয়েছেন দলের রাশ এখনো তাঁর হাতে। সিদ্ধান্তে এখনো সিলমোহর দেন তিনিই। সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেই নাকি ব্ল্যাকমেইল করছেন কেষ্ট দা, অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডল। যদিও পুরো ঘটনার সূত্রপাত একটি লাইভ ভিডিও থেকে। যেখানে দেখা গেছে ফিরহাদ হাকিম বলছেন অনুব্রত নাকি প্রার্থী বাছাইয়ে জোর খাটিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর।

আরও পড়ুনঃ আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছুঁইছুঁই, করোনা রুখতে একাধিক পদক্ষেপ রাজ্যগুলির।

গত সোমবার কলকাতা বন্দর এলাকায় ৭৮নং ওয়ার্ডে একটি কর্মীসভায় যোগ দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। আর সেখানে তিনি যা বক্তব্য রাখেন, তার লাইভ ভিডিও করেন কোনো এক কর্মী। তাতে দেখা গেছে ফিরহাদ বলছেন, নলহাটির বিদায়ী বিধায়ক মঈনউদ্দিন শামসকে টিকিট না দেওয়ার একমাত্র কারণ হলেন অনুব্রত মণ্ডল। তিনিই নাকি ব্ল্যাকমেইল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর ভিডিওটি শেয়ার করেছেন মঈনউদ্দিন এর ভাই নিজামউদ্দিন, যিনি ওই ওয়ার্ডের তৃণমূলের সভাপতি।

বক্তব্যে ফিরহাদ বলছিলেন, তৃণমুলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন তিনি জানতেন না যে টিকিট পাচ্ছেন না মঈনউদ্দিন। নাম ঘোষণা হওয়ার পর তিনি এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন তাঁর ওপর জোর খাটিয়ে নাম বাদ দিয়েছেন অনুব্রত। “অনুব্রত আমার ওপর ব্ল্যাকমেইল করছেন, জোর করে এর নাম কেটে অন্য জনের নাম দিয়েছে, আমি কি করবো?”

মঈনউদ্দিন টিকিট না পাওয়ায় জলঘোলা হয়েছিল বিস্তর, এবার ববি হাকিমের এই মন্তব্য এই বিতর্ক বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন অনেকে। তবে যাঁকে ঘিরে এই বিতর্ক, এখনই পর্যন্ত মুখ খোলেন নি সেই কেষ্ট দা। এমনিতেই বীরভূমের দোর্দন্ড প্রতাপ অনুব্রত মণ্ডলই শেষ কথা সেখানে। শোনা যায় বীরভূমের নেতা মন্ত্রীরাও তাঁর কথাতেই ওঠেন বসেন। কখনো সরাসরি ভোটে লড়েন না তিনি, তবে সুতো থাকে তাঁরই হাতে। তাই বলে মুখ্যমন্ত্রীর ওপরও জোর খাটাবেন তিনি? ফিরহাদ হাকিমের এই প্রশ্নে খোদ মুখ্যমন্ত্রী নাকি বলেছিলেন, “আমাকে সবটা সামলাতে হচ্ছে, সব ভেবেচিন্তে কাজ করতে হচ্ছে, বেচারা টিকিট পেলনা ভেবে খারাপ লাগছে আমারও।” তবে এর প্রেক্ষাপট কী বা কী বলছেন মঈনউদ্দিন থেকে অনুব্রত এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি কিছু।

ওয়াকিবহাল মহল মনে করছেন, বীরভূম অনুব্রতের হাতের মুঠোয়। এমনিতেই বিজেপি একাধিক নেতা মন্ত্রীদের টেনে নিয়েছে নিজেদের দলে। এবার অনুব্রত ও যদি সেপথে পা বাড়ান, তাহলে আরো একটা জেলায় অস্বস্তিতে পড়বে দল, তবে অনেকে আবার এও ভাবছেন, ফিরহাদ হাকিম এসব বলে শেষ মুহূর্তে ম্যানেজ দিতে চাইছেন মঈনউদ্দিন নিজামউদ্দিন কে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত