নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিল্পী হিসেবে গো-মাংস খেতেই পারেন, শিল্পী হিসেবে গো-মাংস খেতেই পারেন, রাজনীতি করলে নয়! আসলে এইমুহুর্তে বাংলায় চলছে ঠিক এই পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষ চাইলেই নিজের মত করে মন্তব্য করতে পারেন না। করলেই তাঁর নামে মামলা, ধর্ষণ, খুনের হুমকি পর্যন্ত আসছে। অন্তত তাই দেখছে বাংলার সাধারণ মানুষ। এই মুহুর্তে এই নিয়ে জোর তরজা চলছে বাংলা চলচিত্রজগতের বেশ জনপ্রিয় অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত, পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়দের সঙ্গে আইনজীবী তরুণ তেওয়ারির।


ঘটনাচক্রে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র নাম। আর তা থেকেই উঠে আসছে আরও একটি কথা, তাহলে কী শিল্পী হিসেবে গো-মাংস খেতেই পারেন, রাজনীতি করলে বা সাধারণ মানুষ হিসেবে নয়? একটি চ্যাট শোতে নিজের ব্যজতিগত জীবন নিয়ে বলতে গিয়ে অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত জানান, নিজের ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বা তাঁর স্বামী অভিনেতা তথাগত স্বচ্ছন্দ গোমাংস খেতে। স্বাভাবিক ভাবেই অভিনেত্রী জানান উতসব অনুষ্ঠানে রেঁধে বেড়েও খাওয়ান তিনি।
ব্যাস এখান থেকেই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। একাধিক অশ্লীল মন্তব্য থেকে খুনের হুমকি পেতে থাকেন অভিনেত্রী। তাঁর পর থেকেই দেবলীনা, পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় এবং আইনজীবী তরুণ তেওয়ারির তরজা তুঙ্গে। ঘটনায় বিস্মিত অভিনেত্রী খুব স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার প্রথম সারির এক সংবাদ মাধ্যমের ডিজিটাল মাধ্যমে জানান তিনি কী খাবেন সেটা কোন রাজ্য বা দেশ ঠিক করে দিতে পারেনা, মানুষের ব্যাক্তিগত পচ্ছন্দ রুচির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে এসব।
শিল্পী হিসেবে গো-মাংস খেতেই পারেন, এখানেই থেমে থাকেননি তিনি, অনেক আগে বাবুল সুপ্রিয়র একটি ভিদিওর উল্লেখ করে তিনি জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও জনসমক্ষে স্বীকার করেছিলেন গোমাংস ভক্ষনের কথা, তাহলে আজ দেবলীনার বিরুদ্ধে অভিযোগ তলা হলে একই কারণে অভিযোগের আঙুল কেনো উঠছে না কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দিকে? সেই সুত্রেই এবার ঘটনায় নাম জড়িয়ে পড়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র নাম। গোমাংস ভক্ষণের বিতর্কে আইনজীবী তরুণ তেওয়ারির হুমকির প্রেখহিতে মামলা দায়ের করেছেন অভিনেত্রী নিজেও।


এবন এ বিষয়ে জানতে ছাইলে সেকাহ্নেই বাবুল এর নাম উল্লেখ করে অভিনেত্রী জানান, “বিজেপি-র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, গায়ক ও অভিনেতা বাবুল সুপ্রিয় এক ইন্টারভিউতে বলেছিলেন, তিনি কলেজ লাইফে বহু বার বিফ বা গরুর মাংস খেয়েছেন। তা নিয়ে কিন্তু কোনও প্রশ্ন করা হয়নি। বলা হয়নি যে, উনি কেন গোমাংস খেলেন? অথচ সেই বিজেপি-রই কর্মী এবং পেশায় আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি ওই বিষয়ে প্রায় একই কথা বলার জন্য শুধু হুমকিই দেননি। আইনি পদক্ষেপ করবেন বলেও জানিয়েছেন!” এভাবে হঠাত করে অনভিপ্রেত বিতর্কে জড়িয়ে স্বভাবতই অস্বস্তিতে বিজেপির এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তাঁর কলেজ লাইফের বিফ খাওয়ার গল্প আবারও উঠে এসেছে জনসমক্ষে।
এই মুহুর্তে বাংলা থেকে গোটা দেশের খাদ্যাভাসের ওপর নজরদারি এবং হাজার বিধিনিসেধ আনছে যে দল বাবুল এখন সেই দলেরই মন্ত্রী, তাহলে ছার পাচ্ছেন কি করে তিনি? বাবুল কে প্রশন করা হলে বাবুল স্পষ্ট জানান “১৯৯৩ সালে অমিতাভ বচ্চনের ওয়ার্ল্ড ট্যুর থেকে শুরু করে ২৭ বছর ধরে পৃথিবীর প্রচুর জায়গায় ঘুরেছি। অনেক কিছু দেখেছি। অনেক কিছু খেয়েছি। এখন আমি রাজনীতিবিদ বলে বিনা কারণে যে কোনও বিতর্কেই আমাকে টেনে আনা হচ্ছে। পুরনো জিনিস নিয়ে যারা ঘাঁটাঘাঁটি করছেন, এটা তাঁদেরই নিম্নরুচির পরিচয়” শধু এখানেই থামেননি মন্ত্রী। তিনি এও জানিয়েছেন বলিউডের একজন গায়ক হিসাবে তিনি যে মন্তব্য করতে পারেন, একজন রাজনীতিবিদ হয়ে তেমন মন্তব্য তিনি করতে পারেন না।
শিল্পী হিসেবে গো-মাংস খেতেই পারেন, অর্থাৎ শিল্পী হিসেবে তিনি অন্য মানুষ এবং রাজনিতিবিদ হিসেবে অন্য মানুষ? তরুণ তেওয়ারির পাশাপাশি শমীক ভট্টাচার্যয়ও পরক্ষ হুমকি দিয়ে রেখেছেন অভিনেত্রীকে, এও জানিয়েছেন ‘‘ওঁরা মানুষের আবেগে আঘাত করছেন। এর পরে যদি ওঁরা জনরোষের শিকার হন, তা হলে কিন্তু তার দায় বিজেপি নিতে পারবে না।’’ কিন্তু সবকিছুর পরও সাধারণ মানুষকে সবথেকে বেশি ভাবাচ্ছে বাবুলের মন্তব্য। কী বলতে চাইছেন বিজেপির এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? শিল্পী হিসেবে গো-মাংশ খেতেই পারেন, রাজনীতি করলে নয়!







