নজরবন্দি ব্যুরো: বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করলেও যতটা সাফল্য আশা করেছিল বিজেপি তা তাঁরা পায়নি। এই কথাটা নির্মম সত্য। তুলনামূলক ফল আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে গেরুয়া শিবিরের নেতারা নিজেদের তথা কর্মীদের যতই সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করুন না কেন, তাঁরা নিজেরাও জানেন সফলতা নির্দিষ্ট গন্ডি পেরোয়নি। বরং একই ভাবে মমতা ম্যাজিক মন্ত্রে ভর করে ক্ষমতায় বহাল থেকেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
আরও পড়ুন: দুর্নীতির আবহে পঞ্চায়েত ভোট, কতটা লড়াই দেবে অভিষেকের ‘নবজোয়ার’?


বিধানসভা নির্বাচনের আগে গেরুয়া শিবিরের নেতাদের দেখা গিয়েছিল যে, তাঁরা যাহাপরনাই আত্মবিশ্বাসী। অনেকেরই মনেই হয়েছিল, এবার বোধহয় ক্ষমতার রথের চাকা ঘুরবে। প্রথম বারের জন্য বাংলায় রাজ করবে বিজেপি সরকার। কিন্তু সে গুড়ে বালি পড়েছে। এখন আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে যদিও নানান দুর্নীতি ধরা পড়ায় খানিকটা কোণঠাসা তৃণমূল। রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে তো এটাই মোক্ষম সুযোগ! একদিকে যখন কেচ্ছা কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত শাসক দল, তখনই তো তার ফায়দা তুলে জনগণকে একত্রিত করে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়াই তো বিরোধী রাজনৈতিকের দলের স্ট্র্যাটেজি হওয়া উচিৎ বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কিন্তু বিজেপি কি তা পারবে? বিধানসভার পরেও যা যা পৌরসভা নির্বাচন এবং উপনির্বাচন পেরিয়েছে, সেখানেও কাঙ্খিত সাফল্য অধরাই থেকেছে। এবার কি বিজেপির টার্গেট ‘পঞ্চায়েত’?

একটা কথা সত্যি, তৃণমূলের বিপক্ষে এখন যদি কোনো দল ধারাবাহিকভাবে লড়াই করে থাকে তার নাম বিজেপি। কারণ, তাঁদের সুযোগ ও সুবিধা দুইই রয়েছে। কেন্দ্রের ক্ষমতা, অর্থের আনুকূল্য আর বাংলার অন্যান্য বিরোধী দলগুলির অস্তমিত অবস্থাই যেন বাড়তি সুযোগ করে দিয়েছে। তাই এখন যে কোনো নির্বাচনের আগে অঙ্ক একটাই, তৃণমূল বনাম বিজেপি। অবশ্য বাকী যারা আছেন অর্থাৎ, বাম-কংগ্রেস তাঁরা যে একেবারে ফসিল হয়ে গিয়েছেন একথা বললে বোধহয় সবটা সত্যি বলা হবে না। লড়াই সব পক্ষই লড়ছে কিন্তু খাতায় কলমে সুযোগ বিজেপিরই বেশী। এখন প্রশ্ন হল পঞ্চায়েতে কি আশ মিটাতে পারবে গেরুয়া শিবির??

২০১৮ সালের পর পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালে আবার পঞ্চায়েত নির্বাচন হতে চলেছে। দিন স্থির হয়েছে হয়েছে ৮ ই জুলাই। একদিনেই ভোট হবে রাজ্যের ৭৩,৮৮৭ টি আসনে। বিগত পাঁচ বছরে বিজেপির সাংগঠনিক ছবিও বদলেছে অনেকটাই। সেবার দলের অধিনায়ক ছিলেন দিলীপ ঘোষ, আর এবার সুকান্ত মজুমদার। ২০১৮ সালে ভোট হয়েছিল ৫৮,৬৯২ আসনে, যেখানে বিজেপি প্রার্থী দেয় ২৮,৪৩০ জায়গায়। আর সেখানে এবার ৭৩,৮৮৭ টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫৪,৭৪৯ জায়গায় প্রার্থী দিয়েছে। অর্থাৎ, মোটের ওপর প্রার্থীর শতকরা হার বেড়েছে ২৭.৩৯ শতাংশ। ২০১৮ সালে জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত সমিতি আর গ্রাম পঞ্চায়েত মিলিয়ে বিজেপি জিতেছিল মোট ৬,৫৫৮ টি আসন। আসনের নিরিখে জয়ের শতকরা হার ছিল ১১.১৭ শতাংশ। মোট ভোট পেয়েছিল ১৯.০১ শতাংশ।



এবারের বিধানসভার নিরিখে বিজেপির জেতা ৭০ টি আসনের মধ্যে ৩৬ টি সম্পূর্ণ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। পাশাপাশি, লোকসভা ভোটে উত্তরবঙ্গেও ভালোই সফলতা পেয়েছিল গেরুয়া শিবির। ফলে লড়াই বেশ হাড্ডাহাড্ডিই হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করার মতো পর্যাপ্ত উপাদানেরও অভাব নেই। আবার তৃণমূলকে রক্ষা করতে ময়দানে নেমছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পঞ্চায়েতকেই রাজনীতির মূল ভিত বলে মনে করা হয়। খেটে খাওয়া মানুষের চাহিদা পূরণের এই নির্বাচনে শেষ হাসি কে হাসবে তা অবশ্য সময় বলবে।
চাকা ঘোরেনি বিধানসভায়, কতটা খেল দেখাবে বিজেপি








