নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষকে বেনিয়মের অভিযোগ উঠতেই ২৬৮ জনকে বরখাস্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট ঘুরে চাকরি বাঁচাতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কর্মরত শিক্ষকরা। বুধবার তাঁদের মধ্যে ১৪৩ জনের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই ১৪৩ জনের দ্রুত বেতন বন্ধের নির্দেশ দেন বিচারপতি।
আরও পড়ুনঃ Kunal Ghosh: অধিকারী গড়েই লোকসভায় প্রার্থী হচ্ছেন কুণাল? জবাব দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র


এদিন ১৪৬ জন প্রাথমিক শিক্ষকের শুনানি ছিল আদালতে। তার মধ্যে ১৪৩ জনের নথি খরিয়ে দেখার পরেই চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বাকি ৩ জনের চাকরি বাতিল করা হয়নি। তাঁদের নথি আরও একবার খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে এই মামলায় ২৬৯ জনের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। পরে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। ২৬৯ জন চাকরি হারানো শিক্ষকদের হাইকোর্টে বক্তব্য পেশ করার কথা জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে ৫৪ জন হলফনামা জমা দিয়েছিলেন। তার মধ্যে ৫৪ জনের চাকরি বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে একজনকে ১০ হাজার টাকার জরিমানার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি। এখন ৮৮ জনের মধ্যে কত জনের চাকরি বাতিল হবে? তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

কর্মরত শিক্ষকদের বক্তব্য, চার বছরের সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন তাঁরা। চাকরি বাতিলের পর তাঁদের মামলায় পার্টি করা হয়নি। অর্থাৎ, তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়নি। এরপরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন কর্মরত শিক্ষকরা। পরে আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের কথা শুনবে আদালত। একইসঙ্গে কী কারণে চাকরি বাতিল? তা জানাতে হবে আদালতকে।


বুধবার ১৪৩ জনের চাকরি বাতিলের পর মোট চাকরি হারানো শিক্ষকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯৬-এ। বুধবার চাকরি বাঁচানোর জন্য আরও ৫৯ জন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁদের মামলার শুনানি হবে আগামীকাল।
১৪৩ জনের চাকরি বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট, বিরাট পদক্ষেপ নিল আদালত

উল্লেখ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এখন জেলে রয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জেলে রয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। গোটা নিয়োগ দুর্নীতিতে পার্থ ও মানিকের ভূমিকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এখন কতজনের চাকরি যায়? আগামী সপ্তাহের শুনানিতে সেটাই দেখার।







