২০০৭ সালে ২০০৮ সালে টাটার ন্যানো কারখানা তৈরির সময় জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গায়ের জোরে জমি অধিগ্রহণ করা যাবে না, এই ইস্যুকে সামনে রেখেই শুরু হয় আন্দোলন। যার নেতৃত্বে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জমি অধিগ্রহণ ভুল করেনি রাজ্য সরকার। রাজ্য সরকারের পক্ষেই রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু ২৬ দিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন বদলে দেয় সিঙ্গুরের ইতিহাসকে। ১৫ দিনের মাথায় অবরুদ্ধ দুর্গাপুর হাইওয়ে। বাংলা ছাড়লেন টাটারা। সিঙ্গুর যেন মমতার জন্য ক্ষমতার রাস্তা মসৃণ করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ Chopra: সার বিক্রিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত চোপড়া, চলল গুলিও


ক্ষমতায় এসেই বিধানসভায় পাশ করালেন সিঙ্গুর জমি পুর্নবাসন এবং উন্নয়ন বিল। বদলে আদালতে উপস্থিত হয় টাটা। কিন্তু তৃণমূল সরকারের পক্ষে রায় দিয়েছিল আদালত। এরপরেই সিঙ্গুরের অযোগ্য জমিতে সর্ষের বীজ ছড়িয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া সিঙ্গুরের জমি হয়ে পড়ে চাষের অযোগ্য। যা এখন কংক্রিতে ভরা। কৃষকদের বক্তব্য তাঁদের অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। কিন্তু সাম্প্রতিককালে আন্দোলনে পৃষ্টভূমি সিঙ্গুরে ব্যয় হয় বিপুল অর্থের। এছাড়া আজ অবধি পরে থাকা অনাবাদী জমি আজ অবধি কোনও কাজে লাগেনি।
১৫ বছর পর সিঙ্গুরের অনাবাদী এই জমিকেই আন্দোলনের উর্বরস্থল হিসাবে বেছে নিয়েছে বিজেপি। গত মাসে একটানা নিম্নচাপ এবং ঘুর্ণিঝড়ের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বঞ্চনার কথা তুলে ধর্না শুরু করলেন তাঁরা। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে বিস্তীর্ণ দক্ষিণবঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেনো আন্দোলনের মাতৃভূমিকে বেছে নিল বিজেপি। এক দশক আগে মমতার ধর্নামঞ্চে রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতি এবং বর্তমানে মমতার সরকারের বিরুদ্ধে বিজেপির আন্দোলন ঘিরে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কৃষক ইস্যুতে মমতা যখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছেন মমতা, তখন সিঙ্গুরে আন্দোলনের মাধ্যমে রাজ্যে মমতার গলার কাঁটা হতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারীরা।
সিঙ্গুরে মমতার ছড়ানো বীজে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিজেপির

ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, সিঙ্গুরে সর্ষের বীজ ছড়ানোর পর সেভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে আর দেখা যায়নি। তাই মমতার ছড়ানো বীজে এখন আন্দোলনের অঙ্কুরোদগম চাইছে বিজেপি। তবে এই আন্দোলনের অন্যতম মূখ এবং সিঙ্গুরের প্রাক্তন বিধায়ক এবং বিজেপি নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে দেখা যায়নি। তাঁর বক্তব্য ওই গোপালবগরের দলীয় কর্মসুচীতে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। যাকে দেখা গিয়েছিল তিনি আরও এক আন্দোলন নন্দীগ্রামের নেতা এবং বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। সিঙ্গুরের জমিতে আঙুল দেখিয়ে বলেন, “এখানে কিছু হল না। সর্ষে ছড়ালেন তাও কিছু হল না। শিল্পও হল না”। তাহলে যেটা হল মমতার ছড়ানো জমিতে আন্দোলনের অঙ্কুরোদগম হল বিজেপির। আর সেখান থেকে নবান্ন যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিল গেরুয়া শিবির।









