নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১০০ আসন পাবেনা BJP, TMC’কে জেতাতে এসেছেন, শুভেন্দু অধিকারী সহ একাধিক নেতা মন্ত্রী দলত্যাগের পর যখন বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল, ঠিক তখনই গত ডিসেম্বরে বোমা ফাটিয়েছিলেন শাসক দলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। টুইট করে গেরুয়া শিবিরকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেছিলেন যে, ‘বাংলার আসন্ন নির্বাচনের দু’অঙ্ক পেরতে বিজেপিকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হবে।’ শুধু তাই নয় তাঁর সঙ্এগে যোগ করেছিলেন, ‘আমি ভুল প্রমাণিত হলে কাজ ছেড়ে দেবো। কিন্তু কৈলাস বিজয়বর্গীয়, বাবুল সুপ্রিয়র, দিলীপ ঘোষরা কি রাজনীতি ছাড়বেন যদি আমার কথা মিলে যায়?’
প্রশান্ত দাবি করেছিলেন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই অঙ্কের আসন সংখ্যা পেরোতে পারবে না৷ যার অর্থ করলে দাঁড়ায়, বিজেপি একশো আসনও পাবে না৷ এদিকে বিজেপি বরাবর দাবি করে আসছে বাংলায় অনায়াসে ২০০ আসন পাবে দল, এবং সংখ্যা গরিষ্ঠতায় ক্ষমতায় আসবে বাংলায়।


এর পর নির্বাচনের প্রস্তুতি আর প্রচারে কেটে গেছে মাঝের কয়েক মাস। রাজ্যে নির্বাচনের নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ার পর প্রশান্ত ফের তুলে এনেছিলেন নিজের পুরনো টুইটের কথা। যেখানে তিনি প্রত্যয়ী ভাবে জানিয়েছিলেন, বাংলায় ৩য় দফায় ফের তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে। বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাননা, চান ঘরের মেয়েকেই, সেইজন্য আবার বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ফিরিয়ে আনবেন নবান্নে। ২ মে তার প্রতিফলন দেখা যাবে। নিজের পুরনো টুইট সামনে এনে লিখেছিলেন, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় লড়াই হতে চলেছে বাংলায়। সেই লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য প্রস্তুত রাজ্যের মানুষ। ঠিক সময়েই তাঁরা বার্তা দিয়ে দেবেন। ২ মে আমার আগের টুইটটি-র কথা মনে রাখবেন।”
নিজের পুরনো টুইটে প্রশান্ত বারবার দাবি করেছিলেন আসন্ন নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল ২০০ এর বেশি আসন পাবে, আজ নিজের সেই বক্তব্যকে আবার পেশ করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য “বিজেপি বাংলায় ১০০-এর বেশি আসন পেলে ভোটকুশলীর কাজই ছেড়ে দেব।” একই সাথে তিনি ভোট কুশলী থাকা সত্বেও উত্তর প্রদেশের হারার কারণও ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আর বাংলায় তৃনমূল সরকারের জেতায় আত্মবিশ্বাসী পিকে, তাঁর অন্যতম কারন দেখাচ্ছেন দিদি তাঁকে কাজ করতে দিয়েছেন একেবারে নিজের মতো করে।
১০০ আসন পাবেনা BJP, TMC’কে জেতাতে এসেছেন, উল্লেখ্য এদিন ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর শুভেন্দু অধিকারী কত বড়ো নেতা তাও দেখে নেবেন বলেছেন তিনি। কারণ দলত্যাগীরা বারবার বলেছিলেন তাঁর জন্যই দল ছাড়ছেন তাঁরা। এ বিষয়ে তিনি জানান, মূলত তৃণমূলের অন্দরে ফাটল আর আতঙ্ক তৈরি করতেই এই কাজ করছে গেরুয়া শিবির। তবে শুধুমাত্র ফাঁকা আওয়াজ করে আর কিছি নেতামন্ত্রী বিধায়ক ভাঙিয়ে বিধানসভার ভোটে জেতা সম্ভব নয়। আমি এখানে তৃণমূলকে জেতাতে এসেছি। সেই কাজ করতে গেলে কোনও কোনও নেতাকে পাত্তা দেওয়া হচ্ছে না বলে মনে করছেন কেউ কেউ। কিন্তু এটা সত্যি নয়। তবে শুভেন্দু অধিকারীকে বরাবরই বেশিই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২ মে যাক, তার পর দেখা যাবে উনি কত বড় নেতা।’









