বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। তার মধ্যেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর শক্ত ঘাঁটি পূর্ব মেদিনীপুরে বড় ধাক্কা খেল বিজেপি। ময়নার গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন পঞ্চায়েত সদস্যা-সহ প্রায় ৫০০টি পরিবার। এই দলবদলের ফলে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গিয়ে গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয়েছে বিজেপির— যা ভোটের মুখে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
সূত্রের খবর, আগামী মার্চের শুরুতেই ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে। তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক পুনর্গঠন ও দলবদলের প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর জেলায় এই ভাঙন রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


কয়েকদিন আগেই ময়নার বিজেপি নেতা চন্দন মণ্ডল তৃণমূলে যোগ দেন। এবার তাঁর স্ত্রী খুকুরানি মণ্ডল এবং গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা কাকলী চৌধুরী স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের হাত ধরে শাসকদলে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে প্রায় ৫০০টি পরিবার তৃণমূলে সামিল হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ছিল ১০ এবং তৃণমূলের ছিল ৭। সাম্প্রতিক দলবদলের পর বিজেপির সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-এ, অন্যদিকে তৃণমূলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯। ফলে পঞ্চায়েতের নিয়ন্ত্রণ এখন তৃণমূলের হাতে চলে গেছে।
যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই দলবদল আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোনও প্রভাব ফেলবে না। অন্যদিকে তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিজেপির সংগঠনিক ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে এবং শুভেন্দু অধিকারীর তথাকথিত ‘অধিকার গড়’-এর ধারণা বাস্তবে ভেঙে পড়ছে।


ভোটের আগে এই রাজনৈতিক পালাবদল পূর্ব মেদিনীপুরের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







