প্রার্থী নয়, ‘না-প্রার্থী’ও চিহ্নিত! ভোটের আগে সমান্তরাল সমীক্ষায় বিজেপির কড়া ছাঁকনি—বিধানসভা পিছু ছ’টি নাম

ভোটের আগে বিজেপির কড়া ছাঁকনি—সম্ভাব্য প্রার্থীর পাশাপাশি ‘না-প্রার্থী’ চিহ্নিত করতে সমান্তরাল সমীক্ষা, বিধানসভা পিছু তিন নয় ছ’টি নাম।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আগে প্রার্থী বাছাইয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ভারতীয় জনতা পার্টি। তাই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সমান্তরাল এক সমীক্ষায় চিহ্নিত করা হচ্ছে ‘না-প্রার্থী’ও—যাঁদের কোনও পরিস্থিতিতেই টিকিট দেওয়া হবে না। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্র পিছু তিনটি পছন্দের নামের সঙ্গে থাকছে আরও তিনটি অপছন্দের নাম। অর্থাৎ, তালিকা তিনে থামছে না—ছ’টি নামেই হচ্ছে চূড়ান্ত মূল্যায়ন।

গতবারের মতো এ বার ‘যোগদান মেলা’ নেই, নেই টলিউড-টেলিউড থেকে আচমকা উড়ে আসা চমকও। তবু ২০২১ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দল ভেতরের সম্ভাব্য অস্বস্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাইরের ঝড় না এলেও ঘরের অস্বস্তি যাতে প্রার্থী তালিকাকে প্রভাবিত না করে—সেই লক্ষ্যেই দিল্লির নির্দেশে এই ‘ডাবল স্ক্রিনিং’ ব্যবস্থা।

কীভাবে হচ্ছে সমীক্ষা

পেশাদার সমীক্ষক সংস্থাকে দিয়ে আসনভিত্তিক সমীক্ষা চালানো বিজেপিতে নতুন নয়। ২০২১ বিধানসভা ও ২০২৪ লোকসভায় এই সমীক্ষাই ছিল প্রার্থী বাছাইয়ের অন্যতম ভিত্তি। এ বার অনেক আসনে দু’দফা, কোথাও তিন দফায় সমীক্ষা হয়েছে।

  • মাঠ সমীক্ষা: এলাকায় এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা।

  • ফোন সমীক্ষা: টেলিফোনে মতামত সংগ্রহ।
    প্রতিটি কেন্দ্রে ১,০০০–১,২০০ জন ভোটারের মতামত নিয়ে সর্বাধিক সমর্থন পাওয়া তিনটি নামকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

‘না-প্রার্থী’ তালিকা কীভাবে তৈরি

এই তিনটির বাইরেই তৈরি হয়েছে আর-একটি তালিকা—‘না-প্রার্থী’। অর্থাৎ, যাঁরা প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করছেন, টিকিট পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন, কিন্তু টিকিট পেলে এলাকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন নাম।
সমীক্ষক সংস্থা খতিয়ে দেখেছে—

  • সংশ্লিষ্ট নামগুলির ভাবমূর্তি

  • টিকিট পেলে ভোটের ফলাফলে প্রভাব

  • এলাকায় আপত্তি বা বিরোধিতা
    এই তথ্য জুড়েই ‘অপছন্দ তালিকা’ তৈরি হয়েছে। কোথাও তিনটি, কোথাও দু’টি নাম রাখা হয়েছে।

কারা জানতেন, কারা জানতেন না

এই সমান্তরাল সমীক্ষার কথা রাজ্য নেতাদের অনেকেই জানতেন না। দিল্লির সরাসরি নির্দেশে কাজটি হয়েছে। এখন মণ্ডল স্তরের পদাধিকারীদের সামনে পছন্দের তিনটি নামের পাশাপাশি অপছন্দের নামও তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রথমে পছন্দের নাম নিয়ে মতামত, তার পরে সরাসরি প্রশ্ন—অপছন্দের নামগুলির বিরুদ্ধে কী অভিযোগ, কেন এলাকায় আপত্তি—সব তথ্য লিখিতভাবে নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গ বনাম দক্ষিণবঙ্গ

বিজেপি সূত্রের দাবি, উত্তরবঙ্গে ‘না-প্রার্থী’ সমস্যা তুলনায় কম। দক্ষিণবঙ্গেই সংখ্যাটা বেশি। অপছন্দ তালিকায় উঠে আসা অনেকেই রাজ্য স্তরে পরিচিত মুখ—কেউ মুখপাত্র, কেউ প্রথম সারির নেতার ঘনিষ্ঠ।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নামগুলি প্রাক্তন তৃণমূলীদের—এক সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন, পরে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এমনও একটি পরিচিত নাম রয়েছে, যিনি একসঙ্গে দু’টি বিধানসভা কেন্দ্রে অপছন্দ তালিকায় জায়গা পেয়েছেন।

কেন এই বাড়তি সতর্কতা

দলের অন্দরের ব্যাখ্যা স্পষ্ট—২০২১ সালের ভুল আর নয়। প্রার্থী বাছাই নিয়ে সে বার কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা হয়েছিল। এ বার তাই ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা, সুপারিশ বা প্রভাব খাটিয়ে যাতে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত মুখ টিকিট না পান—তা নিশ্চিত করতেই এই ‘না-প্রার্থী’ তালিকা। একবার নাম ঢুকলে, প্রভাব খাটিয়েও টিকিট পাওয়া কার্যত অসম্ভব।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর