নজরবন্দি ব্যুরোঃ অর্জুন সিংহ দল বদলেছেন মাত্র ২ দিন হল। বিজেপিতে ৩৮ মাসের সংসার ধর্ম পালন করে ফিরেছেন নিজের পুরোন আস্তানা তৃণমূলে। বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে, দিদির দলে নাম লিখিয়েছেন আবার। মুকুল রায়, রাজীব বন্দোপাধ্যায় বা সব্যসাচী দত্তদের মতই নিজের করা ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন তিনি। জানিয়েছেন বড় ভুল হয়ে গিয়েছিল, যে দলের টিকিটে সাংসদ হয়েছিলেন, সেই দলকে আন্দোলনে নয় ফেসবুকেই আজকাল খুঁজে পাচ্ছিলেন ব্যারাকপুরের সাংসদ।
আরও পড়ুনঃ আগে আমরা চুরির ভাগ দিতাম খাদ্য দফতরকে, অভিযোগ রেশন ডিলারদের
যাই হোক বিগত বেশ কয়েকদিনের জ্বল্পনা বাস্তবায়িত করে মাত্র ২ দিন আগে অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের হাতে জোড়াফুলের উত্তরীয় গলায় চড়িয়েছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন শুধু তিনি নন, আরও অনেকেই লাইন দিয়ে রয়েছেন বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলে নাম লেখানোর জন্যে। আর যারা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন তাদের মধ্যে অন্যতম যে বিষ্ণুপুরের সাংসদ ‘ভাই’ সৌমিত্র খাঁ। তা আকারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সৌমিত্র খাঁর দলবদলের জল্পনা উসকে দিয়ে অর্জুন সিং বলেছিলেন, ”সৌমিত্র আমার ভাই, তাড়াতাড়ি কিছু বলা ঠিক নয়। ওয়েট অ্যান্ড সি, অনেকে আসবে, এটা বলতে পারি।” এদিকে সৌমিত্রর দলবদলের সম্ভাবনা উঁকি দিতেই নড়েচড়ে বসেছে বিজেপি। কারন তিনিও তৃণমূলের সম্পদ ছিলেন একটা সময়। তার স্ত্রী সুজাতা ইতিমধ্যেই নাম লিখিয়েছেন জোড়াফুলে। রীতিমত সিকিওরিটি নিয়ে ঘুরে বেড়ান তিনি, তার জ্বালাময়ী বক্তৃতা অনেকেরই পছন্দ। তাই সৌমিত্র দল বললে ফেলতে পারেন সে আশঙ্কা আছেই বিজেপি নেতাদের।

দলবদলের বাজারে যেভাবে লাইন দিয়ে নেতা এমএলএ বা সাংসদরা নাম লেখাচ্ছেন তৃণমূলে তাতে সৌমিত্রকে আটকানোর জন্যে উপঢৌকন ছাড়া আর কিছু ছিলনা বিজেপির। সোমবারই সৌমিত্র হঠাৎ করে জঙ্গলমহলকে পৃথক রাজ্য ঘোষণার দাবি করে বিতর্কে জড়ান। কিন্তু তারপরের দিন অর্থাৎ আজকেই সৌমিত্র খাঁ কে বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হল।
বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে সৌমিত্র, বাংলা ভাগের ডাক দিয়ে পুরস্কৃত বিষ্ণুপুরের সাংসদ!

বড় দায়িত্ব হাতে পেয়ে মুখ খুলেছেন সৌমিত্র খাঁ, তিনি দলবদলের জল্পনায় জল ঢেলে বলেছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যতদিন তৃণমূলে আছেন, ততদিন তিনি তৃণমূলে ফিরবেন না। তার কথায়, ‘অর্জুনদার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভাল। কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর রাজনৈতিক সম্পর্ক এক নয়। চতুর শেয়ালের হাত ধরে আমি পাঁঠার মতো বলি হব না। আমি চতুর শেয়ালের পতন দেখতে চাই।”



