নজরবন্দি ব্যুরো: শুভেন্দু কেন বিশ্বাসঘাতক, প্রমান দিয়ে বিস্ফোরণ সৌমিত্র খাঁ–র, ‘২০১৯ এর লোকসভা ভোটে স্ত্রী সুজাতা খাঁ নয়, তৎকালীন তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী বিষ্ণুপুর থেকে আমাকে জিততে সাহায্য করেছিলেন।’ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমনটাই মন্তব্য করলেন বিজেপি সাংসদ তথা যুব মোর্চা সভাপতি সৌমিত্র খাঁ। বৃহস্পতিবার কাঁথিতে শুভেন্দুর দলবদলের পর বড় জনসভায় এই কথাই বললেন তিনি।
আরও পড়ুন: বাম-কং জোটের মুখ্যমন্ত্রীর মুখ অধীর! ট্যুইট নেপাল মাহাতোর।
এদিকে সৌমিত্রর জয়লাভ নিয়ে ফের একবার রাজনৈতিক আঙিনায় বিতর্কের সৃষ্টি হল। ২০১৯ সালে তিনি তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। লোকসভা ভোটের আগে দিনরাত এক করে রাজ্যের শাসকদলকে জেতানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তৎকালীন তমলুকের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে কাঁথির জনসভায় বিষ্ণুপুরের সাংসদ বলেন, ”সেদিন আমি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ পর তৃণমূলের একজন নেতাকেই ফোন করেছিলাম – শুভেন্দুদা। বলেছিলাম, দাদা, আপনি বিষ্ণুপুরে প্রচার করতে আসবেন না। উনি আমার কথা শুনে আমার সংসদীয় এলাকায় প্রচার করতে আসেননি। তাই আমি জিততে পেরেছিলাম।”
এদিন বিপক্ষীয় দলের প্রার্থীকে জিততে সাহায্য করায় সেদিনের অবদানের কথা জনসমক্ষে এনে শুভেন্দুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন সৌমিত্র খাঁ। প্রসঙ্গত, বিগত শনিবার মেদিনীপুর কলেজমাঠে দলবদলের মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে ২০১৪ সাল থেকেই তিনি অমিত শাহর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এবার সৌমিত্র স্বীকারোক্তিতে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তৃণমূলের একজন সদস্য, জনপ্রতিনিধি হয়েও তিনি বিজেপিতে নতুন যোগ দেওয়া এই সহকর্মীকেই সাহায্য করেছিলেন। বলতে গেলে নিজে বিষ্ণুপুরে প্রচার করতে না গিয়ে এইসময় সৌমিত্রের জয়লাভের পথটা মসৃণ করে দিয়েছিলেন নন্দিগ্রামের ভূমিপুত্র শুভেন্দু।
শুভেন্দু কেন বিশ্বাসঘাতক, প্রমান দিয়ে বিস্ফোরণ সৌমিত্র খাঁ-র, তবে সেদিন আদালতের নির্দেশে বিষ্ণুপুরে সৌমিত্রর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাঁর প্রচারের গোটা দায়িত্ব একা কাঁধেই সামলেছিলেন স্ত্রী সুজাতা খাঁ। সৌমিত্রর সাংসদ হওয়ার পিছনে কাণ্ডারী সুজাতাই, এই ছবিই স্পষ্ট হয়েছিল সেদিন সকলের কাছে। এমনকী চলতি সপ্তাহে সুজাতা তৃণমূলে যোগদানের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিবাহবিচ্ছেদের কথা ঘোষণা করলেও স্ত্রীর অবদানের কথা স্বীকার করেছিলেন সাংসদ নিজে। কিন্তু তারপরই ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন সৌমিত্র। তিনি নিজের জয়ের নেপথ্য নায়কের গোটা কৃতিত্ব দিলেন শুভেন্দু অধিকারীকে।



