নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপির আদি-নব্যের দ্বন্দ্বে ফের উত্তপ্ত বর্ধমান । দিনকয়েক আগেই বিজেপির আদি ও নব্যের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব বর্ধমান। বিজেপির কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। ইতিমধ্যেই সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তরজা। এবারে দলের আদি-নব্যের দ্বন্দকে সামলাতে আসরে নামলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বর্ধমানের ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে’র ঘটনায় এবার জেলা বিজেপি সভাপতি সন্দীপ নন্দী-সহ ১৪ জনকে শোকজ করা হয়েছে। শুধু তাই নয় আগামী সাতদিনের মধ্যে জবাবদিহি চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: মুসলিমদের খুশি করতেই মমতার প্রতিবাদ! ড্যামেজ কন্ট্রোলে ধর্মীয় উস্কানি কৈলাশের
সূত্রের খবর, বর্ধমান সদর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর অপসারণের দাবিতে সরব বিজেপির একটি গোষ্ঠী। তাঁদের অভিযোগ, বর্ধমান সফরে এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার উদ্বোধন করা দলীয় কার্যালয়ে অনৈতিক কাজ হচ্ছে। সেই অভিযোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন বিজেপির পুরনো কর্মীরা। বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। অভিযোগ, নতুন কর্মীরা ওই দলীয় কার্যালয়ের ছাদ থেকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে ইট ছোঁড়ে। বিক্ষোভকারীরাও পালটা ইট ছুঁড়তে থাকে। ভেঙে যায় পার্টি অফিসের জানলা। দলীয় কার্যালয় সংলগ্ন জিটি রোডে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। রাস্তার উপরে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গাড়িগুলি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বর্ধমান থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের হঠিয়ে দেওয়া হয়। দমকল অগ্নিকাণ্ড সামাল দেয়।
বিজেপির আদি-নব্যের দ্বন্দ্বে ফের উত্তপ্ত বর্ধমান। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি দলীয় কোন্দল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের মতে, যা বিধানসভা ভোটের আগে গেরুয়া শিবিরকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার অরবিন্দ মেনন এবং বাবুল সুপ্রিয়র সামনেই বর্ধমানের পাশাপাশি বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দের জেরে অশান্তি তৈরি হয় আসানসোলেও। যদিও এই ঘটনায় এখনও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি গেরুয়া শিবির।



