নজরবন্দি ব্যুরো: বঙ্গ বিজেপি-র অন্তদ্বর্ন্দ্ব সামলাতে রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। পাখির চোখ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন। লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে রাজ্যের শাসক দলের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে বিজেপি। অনেক নেতাই স্বপ্ন দেখছেন রাজ্যের ক্ষমতা দখলের। কিন্তু বাদ সেধেছে দলীয় অন্তর্কলহ। দলীয় অন্তদ্বর্ন্দ্বে কার্যত বিধ্বস্ত বঙ্গ বিজেপি। দিলিপ ঘোষ এবং মুকুল রায় দু-পক্ষে কার্যত আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছে বাংলার গেরুয়া বাহিনী। আর এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন বিজেপি-র সর্বভারতীয় নেতারা।
আরও পড়ুনঃ বেড পাওয়া নিয়ে সমস্যায় কোভিড রোগীরা। নতুন সমস্যা শিলিগুড়িতে।
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে আসতে চলেছেন অমিত শাহ। আগামী ৫ এবং ৬ নভেম্বর রাজ্য সফর রয়েছে তাঁর। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু জানিয়েছেন একথা। জানা গিয়েছে অমিত শাহ রাজ্যে এসে বিজেপি-র রনকৌশল ঠিক করে দেবেন। উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটকে মাথায় রেখে রাজ্যে অমিত শাহকে এনে সভা করতে চেয়ে দিল্লির কাছে দরবার করেছিল রাজ্য বিজেপি। এরপরেই স্থির হয় বিজেপি সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডা নন রাজ্য সফরে আসবেন অমিত শাহ।
বঙ্গ বিজেপি-র অন্তদ্বর্ন্দ্ব সামলাতে রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। সূত্রের খবর, শাহ প্রথম বৈঠক করবেন মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হুগলি ও হাওড়ার পদাধিকারীদের নিয়ে। হবে রাঢ় বঙ্গের পাঁচ জেলা পূর্ব বর্ধমান, আসানসোল, বীরভূম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া নিয়েও হবে বৈঠক। বৈঠকটি হবে ৫ই নভেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরে। পাশাপাশি ৬ই নভেম্বর কলকাতা, নদীয়া, উত্তর এবং দক্ষিন ২৪ পরগণার পদাধিকারীদের সাথেও বৈঠক করতে পারেন তিনি। অমিত শাহের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায়ের। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মার্চ শেষবার বাংলায় এসেছিলেন অমিত শাহ।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় বিজেপি রাজ্য বিজেপি-কে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে নিজেদের মধ্যে কোন্দল বাড়িয়ে দলের ক্ষতি না করে নির্বাচনে জেতার দিকে মনোনিবেশ করতে। অন্যদিকে বিজেপির মধ্যে মুকুল রায়ের সবথেকে ঘনিষ্ঠ রাজ্য বিজেপির পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হল। এবার থেকে বিজয়বর্গীয়-র জায়গায় বঙ্গ বিজেপির বেশিরভাগ দায়িত্ব পালন করবেন শিবপ্রকাশ। বিজয়বর্গীয়কে বলা হয়েছে, বাংলার চাইতে মধ্যপ্রদেশে বেশি সময় কাটান।
বিজেপি সূত্র জানিয়েছে মুকুলের মত দিলীপ ঘোষকেও বার্তা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সম্প্রতি রাজ্য সম্পাদক হিসেবে আরএসএস প্রচারক অমিতাভ চক্রবর্তীকে নিয়োগ করা হয়েছে সুব্রত চট্টোপাধ্যায়ের জায়গায়। উল্লেখ্য বিষয় হল, সুব্রত চট্টোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই তাকে সরিয়ে দেওয়ায় খুশি হননি দিলীপ ঘোষ। তবে বিরক হলেও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোন মন্তব্য করেননি তিনি।



