কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুরু হয়ে গেল বিজেপির বহুল প্রতীক্ষিত জনসভা। ইতিমধ্যেই মঞ্চে উপস্থিত হয়েছেন রাজ্যের শীর্ষ নেতারা—শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, শমীক ভট্টাচার্য এবং অন্যান্য নেতারা। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই কলকাতায় নামবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর আগমন ঘিরে ব্রিগেড চত্বরে ভিড় ক্রমশ বাড়ছে।
সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা দলে দলে ব্রিগেডের উদ্দেশে রওনা দেন। অনেকেই ট্রেনে করে হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে সেখান থেকে মিছিল করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে যান। শহরের বিভিন্ন জায়গায় মোদীর সভাকে ঘিরে উৎসবের আবহ দেখা গেছে।


ব্রিগেডে শুরু বিজেপির শক্তি প্রদর্শন! মঞ্চে শুভেন্দু-সুকান্তরা, মোদীর অপেক্ষায় ক্রমশ বাড়ছে জনসমুদ্র

সভাস্থলে বক্তৃতা দিতে উঠে রাজ্য নেতারা তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাপস রায় তাঁর বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে অভিযোগ করেন, রাজ্যে সংখ্যাগুরুদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বাঙালি-অবাঙালি বিভাজনের রাজনীতি না করার বার্তাও দেন।
অগ্নিমিত্রা পালও তাঁর বক্তৃতায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। এসআইআর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করার জন্য বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের নেতা নিশীথ প্রামাণিকও বক্তব্য রাখতে গিয়ে দাবি করেন, উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার অনেকটাই পূরণ হয়নি। রাজবংশী ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমস্যার কথাও তিনি তুলে ধরেন।



ব্রিগেড সভাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কড়া। প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। সভাস্থলে প্রবেশের সময় ব্যাগ নিয়ে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় কিছু কর্মীর মধ্যে অসন্তোষও দেখা যায়।
এদিকে সভাস্থলের আশেপাশে কর্মী-সমর্থকদের জন্য খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কোথাও খিচুড়ি রান্না হচ্ছে, কোথাও আবার ডিম-ভাত বা সব্জি-ভাত বিক্রি হচ্ছে। ব্রিগেডে বসানো হয়েছে প্রায় ৬৪ হাজার চেয়ার এবং ৩৫টি বড় স্ক্রিন, যাতে দূরে দাঁড়িয়েও সবাই বক্তৃতা দেখতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভা ঘিরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার ও কাটআউট টাঙানো হয়েছে। তবে এক্সাইড মোড়ের কাছে একটি কাটআউটের মাথা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে মোদীর আগমন ঘিরে ব্রিগেডে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উৎসবের আবহ। এখন সকলের নজর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের দিকে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



